ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। দুতার্তের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার শুরু হবে কি না-তা নির্ধারণে শুনানি শুরু করতে যাচ্ছে আইসিসি।
আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) শুনানি শুরু হওয়ার কথা।
শুনানিতে বিচারকরা নির্ধারণ করবেন, দুতার্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ আছে কী না। শুনানি শেষে ৬০ দিনের মধ্যে আদালত লিখিত সিদ্ধান্ত দেবে।
৮০ বছর বয়সী দুতার্তে এই শুনানিতে সরাসরি উপস্থিত থাকবেন না। তার আইনজীবীদের আবেদনে আদালত তাকে হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। যদিও বিচারকরা বলেছেন তিনি শুনানিতে অংশ নেওয়ার মতো শারীরিকভাবে সক্ষম।
মাদকবিরোধী যুদ্ধ
দুতার্তের ছয় বছরের ক্ষমতাকালে চালানো তথাকথিত “মাদকবিরোধী যুদ্ধ”-এ হাজারো মানুষ নিহত হন। আইসিসির কৌঁসুলিরা তার বিরুদ্ধে তিনটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে অন্তত ৭৬টি হত্যাকাণ্ডে তিনি জড়িত ছিলেন।
প্রথম অভিযোগটি দাভাও সিটির মেয়র থাকাকালে (২০১৩–২০১৬) ১৯টি হত্যাকাণ্ডে সহ-অভিযুক্ত হিসেবে তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে। দ্বিতীয় অভিযোগটি ২০১৬–২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ১৪ জন তথাকথিত “হাই ভ্যালু টার্গেট” হত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। তৃতীয় অভিযোগে ২০১৬–২০১৮ সালে নিম্নস্তরের সন্দেহভাজন মাদক ব্যবহারকারী বা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে ৪৩টি হত্যার কথা বলা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, এই শুনানি ফিলিপাইনের মাদকবিরোধী যুদ্ধের ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
অভিযোগ রয়েছে, দুতার্তের অভিযানে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ৩০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। ভুক্তভোগীদের আইনজীবীরা বলছেন, পূর্ণাঙ্গ বিচার শুরু হলে আরও অনেক পরিবার সামনে এসে সাক্ষ্য দিতে উৎসাহিত হবে।

ভুক্তভোগীদের আশা
২০১৭ সালে দুই ছেলেকে হারানো ল্লোরে পাসকো বলেন, এটাই সত্যের মুহূর্ত। আমরা আশা করি আইসিসি ও বিচারকরা ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ শুনবেন।
১৯ বছর বয়সী ছেলে হারানো মা লুজভিমিন্দা সিয়াপো বলেন, দুতার্তে ছিলেন হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী।
দুতার্তের অবস্থান
দুতার্তে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবী নিকোলাস কাউফম্যান জানিয়েছেন, তার মক্কেল নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন।
দুতার্তে ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। গত বছরের মার্চে তাকে ম্যানিলায় গ্রেপ্তার করে নেদারল্যান্ডসে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি আইসিসির আটক কেন্দ্র শেভেনিঙ্গেন কারাগারে আছেন। প্রাথমিক শুনানিতে তিনি ভার্চুয়াললি উপস্থিত হন।
এক চিঠিতে দুতার্তে বলেছেন, তিনি আদালতের এখতিয়ার স্বীকার করেন না এবং নিজের উত্তরাধিকার নিয়ে গর্বিত। তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র-এর বিরুদ্ধে তার অপহরণে সহযোগিতার অভিযোগও তোলেন।
ফিলিপাইন ২০১৯ সালে দুতার্তের নির্দেশে আইসিসি থেকে বেরিয়ে গেলেও, আদালত বলেছে ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সংঘটিত অভিযোগিত অপরাধের ওপর তাদের এখতিয়ার বহাল রয়েছে। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা পক্ষ আপিল করেছে।






