প্রতিবেশী দেশ ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিমান হামলা চালানোয় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সেখানের উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাতে শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।
সংযত হওয়া এবং উত্তেজনা এড়ানোর কথা উল্লেখ করে ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সৌদি আরব লোহিত সাগর অঞ্চলে সামরিক অভিযান এবং ইয়েমেন প্রজাতন্ত্রের বেশ কয়েকটি স্থাপনায় বিমান হামলা চালানোয় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং তারা সেখানের পরিস্থিতির উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।’
উল্লেখ্য, লোহিত সাগরে জাহাজে ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনীর কয়েক সপ্তাহের ধ্বংসাত্মক হামলার পর শুক্রবার ভোরে বিদ্রোহী অধ্যুষিত ইয়েমেনের বিভিন্ন স্থাপনায় ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে মার্কিন ও ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান।
হুথি বিদ্রোহীদের আল-মাসিরাহ টিভি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান একটি বিমানঘাঁটি, বিমানবন্দর ও সেনাবহিনীর একটি ক্যাম্পকে লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে।
হুথির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুসেন আল-ইজির উদ্ধৃতি দিয়ে বিদ্রোহীদের মিডিয়া জানায় ‘আমাদের দেশ আমেরিকান ও ব্রিটিশ জাহাজ, সাবমেরিন ও যুদ্ধবিমান দ্বারা ব্যাপক হামলার শিকার হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকা ও ব্রিটেনকে এর জন্য চরম মূল্য দিতে হবে এবং এই নির্লজ্জ আগ্রাসনের ভয়াবহ পরিণতি বহন করতে হবে।’
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন লোহিত সাগরে হামলার পর মার্কিন ও ব্রিটিশ হামলাকে একটি ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করে বলেছেন, প্রয়োজনে তিনি আরও সামরিক পদক্ষেপের নির্দেশ দিতে সঙ্কোচবোধ করবেন না।
বেশ কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় যুদ্ধবিমান ও টমাহক ক্ষেপনাস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে।
বাইডেন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘হুথি বিদ্রোহীদের স্বাধীনতাকে বিপন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী আজ আমার নির্দেশে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, কানাডা ও নেদারল্যান্ডসের সমর্থনে ইয়েমেনে হুথিদের ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি স্থাপনায় সফলভাবে হামলা চালিয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নৌপথে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহারসহ ওই হামলাকে তিনি হুথিদের নজীরবিহীন হামলার সরাসরি প্রতিক্রিয়া বলে অভিহিত করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘হুথিদের হামলা মার্কিন সেনাবহিনী, বেসামরিক নাবিক এবং আমাদের অংশীদারদের বিপন্ন করেছে। বাণিজ্যকে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।’
বাইডেন বলেন, ‘আমাদের জনগণকে রক্ষার জন্য ও প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ রক্ষার্থে আমি আরও ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করব না।’



