
ছবি: সংগৃহীত
মঙ্গলগ্রহে রহস্যময় কিছু গর্তের সন্ধান পেয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার রোভার কিউরিওসিটি। গেইল ক্রেটারের ভেতরে মাউন্ট শার্পের ‘ভ্যালে গ্র্যান্ডে’ উপত্যকা দিয়ে যাওয়ার সময় গর্তগুলোর ছবি ধারণ করে রোভারটি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নাসা জানিয়েছে, মঙ্গলের ধুলোময় পৃষ্ঠের মধ্যে গর্তগুলো স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। তবে এগুলো সাধারণ উল্কাপিণ্ডের আঘাতে তৈরি গর্তের মতো নয়। গর্তগুলো তুলনামূলকভাবে প্রশস্ত ও অগভীর। ভেতরে আগে কোনো বস্তু ছিল, এমন দৃশ্যমান চিহ্নও পাওয়া যায়নি।
নাসার বিজ্ঞানী ও মার্স হ্যান্ড লেন্স ইমেজার (এমএএইচএলআই)-এর ডেপুটি প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর মিশেল মিনিত্তি এক ব্লগ পোস্টে বলেন, মঙ্গলের পৃষ্ঠে এ ধরনের গর্ত একেবারে অস্বাভাবিক নয়। তবে এবারের গর্তগুলো আগে দেখা গর্তগুলোর তুলনায় অনেক বেশি প্রশস্ত ও অগভীর।
তিনি বলেন, মঙ্গলের পৃষ্ঠে কিউরিওসিটির ১৪ বছর কাটানোর পরও গ্রহটি বিজ্ঞানীদের চমকে দিয়ে চলেছে।
গর্তগুলোর ব্যাস প্রায় ১ সেন্টিমিটার। কিউরিওসিটি গত ১৯ আগস্ট ইউটিসি সময় সকাল ৭টা ৫৯ মিনিট ২১ সেকেন্ডে এগুলোর ছবি ধারণ করে।
গর্তগুলোর আকৃতি ও গভীরতা বিস্তারিতভাবে বোঝার জন্য রোভারের রোবটিক বাহুতে থাকা এমএএইচএলআই ক্যামেরা দিয়ে কাছ থেকে রঙিন ছবি তোলা হয়। পাশাপাশি মাস্টক্যাম ক্যামেরায় আশপাশের এলাকার একাধিক ছবি ধারণ করা হয়। এসব ছবি একত্র করে বিজ্ঞানীরা গর্তগুলোর ত্রিমাত্রিক মডেল তৈরি করেন।
মিনিত্তির মতে, মাউন্ট শার্পের এই অংশের শিলাস্তরের গঠন বোঝার ক্ষেত্রে গর্তগুলো নতুন একটি ধাঁধা তৈরি করেছে। বাইরে থেকে সাধারণ মনে হলেও ওই এলাকার শিলাস্তরের গঠন মোটেও একঘেয়ে নয়।
কিউরিওসিটির মাস্টক্যাম ও কেমক্যাম যন্ত্রে অল্প দূরত্বের মধ্যেই শিলাস্তরের গঠন ও আকৃতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ধরা পড়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, পাশাপাশি থাকা এসব স্তরের পার্থক্য মঙ্গলের অতীত পরিবেশ এবং পলি জমার পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।
এ ছাড়া কেমক্যাম, এমএএইচএলআই ও এপিএক্সএস যন্ত্র দিয়ে ধূসর ও খসখসে কিছু শক্ত স্তরও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এগুলো আশপাশের মূল শিলার তুলনায় আলাদা এবং ভিন্ন রাসায়নিক গঠনের ইঙ্গিত দিতে পারে।
কিউরিওসিটি ওই এলাকায় ছড়িয়ে থাকা ছোট ধূসর পাথরও পরীক্ষা করছে। এসব পাথরের উৎস এবং কীভাবে সেগুলো সেখানে ছড়িয়ে পড়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
