ভালোবাসা যত বড়, জীবন তত বড় নয়

ভালোবাসা যত বড়, জীবন তত বড় নয়

মেয়েটি বলেছিল, যেদিন আমাদের প্রথম দেখা হবে, সেদিনই আমি আমার আসল নাম বলব।

আর ছেলেটি বলেছিল, তত দিন আমি তোমাকে ‘ভালোবাসা’ বলেই ডাকব।

৩.

ইনবক্সিংয়ের (মানে ইনবক্সে কথা–চালাচালি আর কী!) কয়েক মাস পেরিয়ে গেছে।

আজ ভালোবাসা দিবস। ওদের প্রথম দেখা হবে।

ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকেই কথাসাহিত্যের চেয়ে ব্যথাসাহিত্য নিয়ে দুজনের টুং-টাং, টাং-টুং বেশি হয়। অতঃপর পারস্পরিক সম্মতিক্রমে প্রথম দেখার ক্ষণ উপস্থিত।

কী হয়! কী হবে! ছেলেটির বারবার শুধু ওই নিউজটার কথাই মনে পড়ে—ফেসবুকে পরিচয়, তারপর প্রেমের অভিনয় করে…।

অবশ্য নিউজ-ট্যাগানো (মানে ট্যাগ করা হয়েছিল যাদের) সেই চারজন ‘বিপদের বন্ধু’ অভয় দিয়ে বলেছে, ‘চিন্তা করিস না দোস্ত, আমরা মাস্ক পরে আশপাশেই থাকব। কোনো প্রতারক, ছলনাময়ী তোর কিচ্ছু করতে পারবে না!’

বন্ধুদের কথা শুনে মাথার চুল চুলকাতে চুলকাতে ফেসবুকে পাওয়া আরেকটি উক্তি মনে পড়ে যায় ছেলেটির, ‘মানুষ ভালোবাসার কাছে ফেরে না, ফেরে সত্যের কাছে।’

আজ সে কোন সত্যের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে!

৪.

রেস্তোরাঁর দরজা দিয়ে ঢুকে টিয়া রঙের শাড়ি পরা মেয়েটিকে দেখেই হার্টের একটা বিট মিস হয়ে গেল। একে শুধু ‘ভালোবাসা’ বলে ডাকলে অন্যায় করা হবে। ডাকতে হবে ‘ভালোবাসা সীমাহীন’!

রেস্তোরাঁর ভেতরে, তিনটা টেবিল পেছনে বসা সেই চারজন ট্যাগানো বন্ধু আড়চোখে দেখল, দুজন মুখোমুখি বসেছে। হাসছে। কথা বলছে। একসময় দুজনের মধ্যে উপহার বিনিময় হলো। খাওয়াদাওয়া হলো। সবশেষে বিদায় নেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়াল ওরা দুজন। 

সঙ্গে সঙ্গে চার বন্ধুর মাস্কে ঢাকা মুখের হাসি উধাও হয়ে গেল। এক বন্ধু ফিসফিস করে বলল, ‘একি দেখছি! ভালোবাসা যত বড়, জীবন তত বড় নয়।’

দ্বিতীয়জন বলল, ‘হুঁ, জীবনের চেয়ে ওই মেয়েটি কমপক্ষে ৬ ইঞ্চি লম্বা হবে।’

তৃতীয়জন বলল, ‘এই প্রেম আজই শেষ।’

চতুর্থজন (দৈনিক গতকাল পত্রিকার রিপোর্টার) আফসোস করে বলল, ‘ভেবেছিলাম ফেসবুকে পরিচয়, প্রেমের নামে যুবকের সর্বস্ব লুটে নিল প্রতারক প্রেমিকা—এই শিরোনামে একটা নিউজ লিখব। হলো না…’

ওদের এসব ফিসফিসানির মধ্যেই
জীবন নামের ছেলেটি, শর্বরী নামের মেয়েটির হাত ধরে হাসতে হাসতে রেস্তোরাঁ থেকে
বেরিয়ে গেল।

Scroll to Top