ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বিশাল বাণিজ্য চুক্তি | চ্যানেল আই অনলাইন

ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বিশাল বাণিজ্য চুক্তি | চ্যানেল আই অনলাইন

ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একটি বিশাল বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এ চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জন্য একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে উঠবে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নয়াদিল্লি সফরের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে উরসুলা ফন ডার লেয়েন বলেন, আজ আমরা ইতিহাস গড়ছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা সব চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছি। এর মাধ্যমে ২০০ কোটি মানুষের একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল তৈরি হলো, যা উভয় পক্ষের জন্যই উপকারী হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, প্রায় দুই দশক ধরে দফায় দফায় আলোচনার পর এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গে বৈঠকের আগে তিনি চুক্তিটির সুফল তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, এই চুক্তি ভারতের ১৪০ কোটি মানুষ ও ইইউর কোটি কোটি মানুষের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

মোদি আরও জানান, এই বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২৫ শতাংশ অন্তর্ভুক্ত হবে। এর ফলে ভারতের বস্ত্র, রত্ন ও গহনা এবং চামড়াজাত পণ্যের মতো খাতগুলো বিশেষভাবে লাভবান হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ও চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের প্রেক্ষাপটে নতুন বাজার খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে ব্রাসেলস ও নয়াদিল্লির উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই চুক্তি হয়েছে।এর মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত তার বৃহৎ ও সুরক্ষিত বাজার ২৭ সদস্যের ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করবে। বর্তমানে ইইউ ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।

ইইউ ভারতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে, আর ভারত ইউরোপকে প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে দেখছে।

ইইউ জানিয়েছে, এই চুক্তির ফলে ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতে ইইউর রপ্তানি দ্বিগুণ হতে পারে। গত এক দশকে ভারত–ইইউর পণ্য বাণিজ্য প্রায় ৯০ শতাংশ বেড়ে ২০২৪ সালে ১২০ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে। পাশাপাশি সেবা খাতে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬০ বিলিয়ন ইউরো।

চুক্তি অনুযায়ী, ইইউ থেকে ভারতে রপ্তানিকৃত ৯৬.৬ শতাংশ পণ্যের ওপর শুল্ক বাতিল বা কমানো হবে। এতে ইউরোপীয় পণ্যের ওপর বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরো শুল্ক সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছেন ইইউ কর্মকর্তারা।

যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক ও ওষুধসহ বেশিরভাগ পণ্যের শুল্ক সম্পূর্ণ বা প্রায় সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়া হবে। গাড়ির শুল্ক ধাপে ধাপে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামানো হবে, বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার গাড়ির কোটা নির্ধারণ করে। আর্থিক ও সামুদ্রিক সেবাসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে ইইউর সেবা প্রদানকারীরা বিশেষ সুবিধা পাবে।

ইইউর বিমান ও মহাকাশযানের প্রায় সব পণ্যের ওপর শুল্ক তুলে নেওয়া হবে। পাশাপাশি মদের ওপর শুল্ক কমিয়ে ২০–৩০ শতাংশ, স্পিরিটসে ৪০ শতাংশ এবং বিয়ারে ৫০ শতাংশ করা হবে। ফলের রস ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের শুল্ক পুরোপুরি বাতিল করা হবে।

এ ছাড়া ভারত ও ইইউ একটি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব চালুর ঘোষণাও দিয়েছে, যা জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ইইউর অংশীদারিত্বের মতোই হবে। উভয় পক্ষ তাদের কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায়।

Scroll to Top