ভারত ইরান নয়, ভেনেজুয়েলা থেকেই তেল আমদানি করবে – DesheBideshe

ভারত ইরান নয়, ভেনেজুয়েলা থেকেই তেল আমদানি করবে – DesheBideshe

ওয়াশিংটন, ০১ ফেব্রুয়ারি – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভারত ইরান থেকে নয়, ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি করবে। শুক্রবার ওয়াশিংটন নয়াদিল্লিকে জানিয়েছিল, রুশ তেলের বিকল্প হিসেবে শিগগিরই ভারত ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনা পুনরায় শুরু করতে পারে। এর পরদিনই এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। খবর রয়টার্সের।

ওয়াশিংটন থেকে ফ্লোরিডা যাওয়ার পথে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে একটি বাণিজ্যচুক্তির ‘ধারণাগত কাঠামোতে’ সম্মত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ভেনেজুয়েলা থেকে ভারতের তেল আমদানির বিষয়টি ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হতে পারে।

এর আগে ভেনেজুয়েলার তেল কেনার কারণে ভারতসহ কয়েকটি দেশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। ২০২৫ সালের মার্চে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর যুক্তরাষ্ট্র কারাকাস সরকারের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয় এবং দেশটির তেল খাত দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিকল্পনা করে।

যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানির মাধ্যমে রাশিয়ার তেল থেকে অর্জিত রাজস্ব কমানো, যা ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে ওয়াশিংটনের দাবি। তবে ভেনেজুয়েলার তেল কীভাবে ভারতে সরবরাহ করা হবে—আন্তর্জাতিক ট্রেডিং হাউসের মাধ্যমে নাকি রাষ্ট্রায়ত্ত পিডিভিএসএ সরাসরি বিক্রি করবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

হোয়াইট হাউস ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ভারতের জ্বালানিমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ তেলের দাম কমে গেলে ভারত রাশিয়ার অন্যতম বড় ক্রেতায় পরিণত হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নানা কারণে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি কমছে। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানিয়েছেন, বিকল্প উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহে জোর দিচ্ছে ভারত।

রয়টার্সের সূত্র অনুযায়ী, শিগগিরই রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেলের নিচে নামানো হতে পারে, যা মার্চে কমে প্রায় ৮ লাখ ব্যারেলে দাঁড়াতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে তা আরও কমে দৈনিক পাঁচ থেকে ছয় লাখ ব্যারেলে নামার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এদিকে রুশ তেল আমদানি কমে যাওয়ায় ভারত মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো থেকে তেল সংগ্রহ বাড়িয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি কয়েকটি শোধনাগার ইতোমধ্যে রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করেছে। তবে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ফেব্রুয়ারি থেকে সীমিত পরিসরে রুশ তেল আমদানি অব্যাহত রাখবে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের পর রাশিয়া ভারতকে আশ্বস্ত করেছে যে, তারা ভারত থেকে আরও পণ্য আমদানি করবে। দুই দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিনয় কুমার।

এনএন/ ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬



Scroll to Top