সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, দক্ষিণ ভারতের রাজ্য তেলেঙ্গানায় গত এক দশকে বেতন এবং পেনশনের পরিমাণ তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে রাজ্য এখন প্রতি মাসে বেতন এবং পেনশনের জন্য প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে, যা ২০১৪ সালে রাজ্য গঠনের সময়ের ব্যয়ের প্রায় চারগুণ বেশি।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী তেলেঙ্গানায় বিদ্যুৎ সংস্থার শীর্ষ সরকারি প্রকৌশলীরা প্রতি মাসে ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করেন, যেখানে বৃহত্তর হায়দ্রাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের সিনিয়র স্যানিটেশন কর্মীরা বহু বছর ধরে চাকরি করে মাসে প্রায় ২ লক্ষ টাকা আয় করেন।
তেলেঙ্গানায় সর্বোচ্চ বেতনপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন রাজ্য বিদ্যুৎ সংস্থা তেলেঙ্গানা স্টেট পাওয়ার জেনারেশন কর্পোরেশন লিমিটেড, তেলেঙ্গানা স্টেট ট্রান্সমিশন কর্পোরেশন লিমিটেড, এবং ডিসকম তেলেঙ্গানা সাউদার্ন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এবং তেলেঙ্গানা নর্দার্ন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান প্রকৌশলীরা, যেখানে পর্যায়ক্রমিক চার বছরের সংশোধনের ফলে সিনিয়র পোস্টে মাসিক বেতন ৭ লক্ষ টাকা হয়েছে।
হায়দ্রাবাদের নগর পরিচালনাকারী জিএইচএমসি-তে, স্যানিটেশন কর্মীরা গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকা পান, যেখানে প্রাথমিক স্তরের পৌর কর্মীরা প্রায় ২৮ হাজার টাকা পান এবং দীর্ঘমেয়াদী চাকরির সাথে সিনিয়র চতুর্থ শ্রেনীর কর্মীরা মাসিক ২ লক্ষ টাকা পান।
বেশিরভাগ কর্মচারী জাতীয় পেনশন ব্যবস্থার (এনপিএস) আওতাধীন, যা দীর্ঘমেয়াদী ব্যয় বৃদ্ধি করছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, ভারী বেতন কাঠামো সত্ত্বেও রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধি এখন পর্যন্ত সরকারকে সময়মতো বা সামান্য বিলম্বে বেতন প্রদানে সহায়তা করেছে।
সাম্প্রতিক কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে ২০২৩-২৪ সালে রাজ্যের রাজস্বের প্রায় ৪৫ শতাংশ বেতন, পেনশন এবং ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে।
সরকারের জনকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সিএমওর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তেলঙ্গানার অর্থনীতি প্রসারিত হচ্ছে, জিএসডিপি ১০ শতাংশের উপরে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মাথাপিছু আয় ভারতে সর্বোচ্চ।
তেলঙ্গানার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট অনুসারে, রাজ্যের রাজস্ব আয় আনুমানিক ২ দশমিক ৩০ লক্ষ কোটি টাকা, রাজস্ব ব্যয় ২ দশমিক ২৭ লক্ষ কোটি টাকা, মোট বাজেট ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ৩ দশমিক ৫ লক্ষ কোটি টাকা। রাজস্ব পরিকল্পনায় ২ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকার সামান্য রাজস্ব উদ্বৃত্তের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
বাজেটের প্রধান বরাদ্দগুলো ছিল- শিক্ষা: ২৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও পরিবার কল্যাণ: ১২ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা, তপশিলি জাতি/উপজাতি কল্যাণ: ৫৭ হাজার ৪০১ কোটি টাকা (প্রায়), এবং কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন: ২৪ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা।






