মুম্বাই, ০৯ জানুয়ারি – বলিউডে ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ হিসেবে পরিচিত আমির খানের পেশাগত সাফল্যের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল তার পারিবারিক টানাপোড়েন—বিশেষ করে ভাই ফয়সল খানের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি। প্রায় ২৫ বছর ধরে চলা সেই দ্বন্দ্ব ও নানা অভিযোগ নিয়ে এবার প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মুখ খুললেন আমির।
দুই ভাইয়ের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয় ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মেলা’ সিনেমাকে ঘিরে। ছবিটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়, যদিও এই সিনেমার মাধ্যমেই আমির তার ভাই ফয়সল খানকে বড় পর্দায় পরিচয় করিয়ে দেন। পরবর্তীতে ফয়সল অভিযোগ করেন, শুটিং চলাকালে তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে দুর্বল করে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন।
বিগত বছরগুলোতে ফয়সল খান আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, তাকে ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’ প্রমাণ করে জোরপূর্বক ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। এক ঘটনায় তিনি বলেন, একদিন বহু মানুষ তার বাড়িতে ঢুকে তাকে জোর করে ওষুধ খাওয়ায় এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সেদিন পালাতে না পারলে আজীবন বন্দি থাকতে হতো বলেও দাবি করেন তিনি। এসব ঘটনার পর তিনি পরিবারের সম্পত্তি থেকেও নিজেকে সরিয়ে নেন।
ভাইয়ের এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে আবেগপ্রবণ কণ্ঠে আমির খান বলেন, “আমি আর কী করতে পারি? এটাকে আমি আমার ভাগ্য হিসেবেই মেনে নিয়েছি। গোটা বিশ্বের সঙ্গে লড়াই করা যায়, কিন্তু নিজের পরিবারের সঙ্গে লড়াই করা সবচেয়ে কঠিন।”
তবে পাল্টা অভিযোগ বা কাদা ছোড়াছুড়ির পথে না গিয়ে আমির স্পষ্ট করেন, ভাইয়ের প্রতি তার সদিচ্ছা এখনও অটুট। তিনি বলেন, “আমি চাই ফয়সল আবার অভিনয়ে ফিরুক। ইন্ডাস্ট্রিতে যদি কেউ তাকে কাজ না দেয়, তাহলে আমি নিজেই তার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।”
আমিরের এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে—দীর্ঘদিনের দূরত্ব কি তবে এবার ঘোচাতে চলেছে খান পরিবার?
এনএন





