কার হাতে উঠবে ব্যালন ডি অর? বিশ্বকাপ শেষে জোরেশোরে চলছে জল্পনা কল্পনা। ফুটবল বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের মূল ভিত্তি হিসেবে তিনটি নির্দিষ্ট স্তম্ভের কথা বলা হয়—ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, দলীয় সাফল্য এবং ফেয়ার প্লে। পুরো মৌসুমের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে একশো জন আন্তর্জাতিক সাংবাদিকের ভোটাভুটিতে নির্ধারিত হয় বিজয়ীর নাম। এই নিয়ম ও যুক্তির বিচারে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের ক্ষেত্রে হ্যারি কেইনেরই সবার ওপরে থাকার কথা।
চলতি মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে রূপকথার মতো এক সময় কাটিয়েছেন ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। জার্মান ক্লাবটির হয়ে ৫১ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ৬১। বুন্দেসলিগায় ৩৬ গোল করে হয়েছেন লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা, জিতেছেন ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু। এছাড়া বায়ার্নকে বুন্দেসলিগা ও ডিএফবি-পোকালের ঘরোয়া ডাবলস জেতানোর পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালেও নিয়ে গেছেন। পরবর্তীতে ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে দিয়ে আসরে করেছেন ৬ গোল।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, দলীয় অর্জন কিংবা নেতৃত্বগুণ ও ফেয়ার প্লে—সব মানদণ্ডেই কেইনের অবস্থান শীর্ষে। পরিসংখ্যান বলছে, ক্লাব ও দেশ মিলিয়ে কেইন এই মৌসুমে মোট ৭৩টি গোল করেছেন। পরিসংখ্যানের বিচারে কেইন এগিয়ে থাকলেও জনমত ও গণমাধ্যমের বড় একটি অংশ লিমিনে ইয়ামালকে সর্বকনিষ্ঠ ব্যালন ডি’অর জয়ী হিসেবে দেখতে মুখিয়ে আছে। বার্সেলোনার জার্সিতে লা লিগা জয়, স্প্যানিশ সুপার কাপ এবং লিগের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পাওয়ার পর মাত্র ১৯ বছর বয়সেই স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন এই তরুণ তুর্কি।
সমালোচকরা বলছেন, ইয়ামাল বার্সেলোনার হয়ে দারুণ মৌসুম কাটালেও কেইনের মতো একক দাপট দেখাতে পারেননি। এমনকি বিশ্বকাপে স্পেনের সাফল্যের মূল কারিগর ছিলেন রদ্রি, যিনি গোল্ডেন বল জিতেছেন। এছাড়া পাউ কুবারসি নির্বাচিত হয়েছেন বিশ্বকাপের সেরা তরুণ খেলোয়াড়। বিপরীতে বিশ্বকাপে মাত্র এক গোল করা ইয়ামালকে স্রেফ ‘বিশ্বকাপজয়ী’ ট্যাগ দিয়ে ফেভারিট হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি ব্যালন ডি’অর কেবল নিয়ম ও মানদণ্ড অনুযায়ী দেওয়া হয়, তবে হ্যারি কেইনের ধারেকাছে কেউ নেই। কিন্তু ভোটদাতারা যদি পারফরম্যান্সের চেয়ে অক্টোবর মাসের ভোটাভুটির আগের কয়েক সপ্তাহের আবেগময় গল্প বা দৃশ্যপটকে বেশি প্রাধান্য দেন, তবে ইয়ামালের পাল্লা ভারী হতে পারে। এছাড়া রদ্রি, কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকারাও পুরস্কারের দৌড়ে রয়েছেন। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর নিয়ে কঠিন লড়াই অপেক্ষা কারছে।




