
বুয়েনোস আইরেস, ২৮ জুলাই –২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে চরম হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর পরাজিত হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন আর্জেন্টিনার তারকা ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি। জাতীয় দলের হয়ে ১৩৯টি ম্যাচ খেলার পর বুট জোড়া তুলে রাখার এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে ফুটবল বিশ্বজুড়ে নেমে এসেছে আবেগের ছায়া।
আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারের অবসরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ পোস্ট করে তাঁকে সম্মান ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ওতামেন্দির অসামান্য ক্যারিয়ারের প্রশংসা করে লিখেছেন, “একটি সাধারণ কিন্তু অসাধারণ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য অভিনন্দন, নিকোলাস ওতামেন্দি। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট এবং আর্জেন্টিনার হয়ে ১৩৯ ম্যাচ খেলা অন্যতম অভিজ্ঞ ফুটবলার তুমি। তোমার নেতৃত্ব ও দৃঢ়তা আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের একটি অবিস্মরণীয় যুগ গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।”
ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়ে ইনফান্তিনো আরও যোগ করেন, “বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের অসংখ্য অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। জীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।”
রিভার প্লেটে ফেরার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের উদ্দেশ্যে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন ওতামেন্দি। তিনি স্বীকার করেন, এটিই তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন লেখা ছিল।
জাতীয় পতাকার প্রতি ভালোবাসা: “ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার জার্সি পরার স্বপ্ন দেখেছি। এই জার্সি পরা ছিল ফুটবল আমাকে দেওয়া সবচেয়ে বড় সম্মান। আমি সর্বোচ্চ গর্ব, দায়িত্ব ও আত্মনিবেদন দিয়ে এই জার্সিকে প্রতিনিধিত্ব করেছি।”
ফাইনালে হারের বেদনা: ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালই তাঁর শেষ ম্যাচ হওয়াকে ভাগ্যের লিখন উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “আমরা কাঙ্ক্ষিত ফল পাইনি, কিন্তু মাথা উঁচু করেই বিদায় নিচ্ছি। কারণ জানি, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা সর্বস্ব দিয়ে লড়েছি।”
তরুণ ডিফেন্ডারদের পথ দেখাতে ওতামেন্দি বলেন, “কখনো বিশ্বাস হারিও না। এমন বাধা আসবে, যা অতিক্রম করা অসম্ভব মনে হবে। কিন্তু এই জার্সি সবসময় তাদেরই পুরস্কৃত করে, যারা বিনয়, ত্যাগ ও ভালোবাসা দিয়ে এটিকে রক্ষা করে। মাথা উঁচু করে লড়াই চালিয়ে যাও। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের গল্পের পরের অধ্যায় তোমরাই লিখবে।”
পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিশ্বজয়ী এই ডিফেন্ডার তাঁর বিদায়ী বার্তা শেষ করেন এভাবে— “শিরোপা ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়, কিন্তু এই রঙের প্রতি ভালোবাসা আজীবন থেকে যায়। বিদায়, জাতীয় দল।”
এনএন/ ২৮ জুলাই ২০২৬







