ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি – বাংলাদেশের জন্য দুঃসংবাদের দিনেই সাকিব আল হাসান ও তার ভক্তরা একটি বড় সুখবর পেয়েছেন। নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে ভারতে গিয়ে আসন্ন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচগুলো আয়োজনের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এ বিষয়ে একাধিক দফা বৈঠক হলেও আইসিসি বিসিবির সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি। শেষ পর্যন্ত বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপের আসর থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আইসিসি থেকে এই দুঃসংবাদ আসার দিনেই বিসিবি দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে নিয়ে ইতিবাচক একটি সিদ্ধান্তের কথা জানায়। বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, সাকিবকে আবারও জাতীয় দলের জন্য বিবেচনা করা হবে এবং তাকে কেন্দ্রীয় চুক্তির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
এদিন রাতে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান বিসিবির পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, বোর্ড থেকে সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং হোম ও অ্যাওয়ে—দুই ধরনের সিরিজেই তিনি খেলতে পারবেন কি না, সেটি জানতে চাওয়া হয়েছে। সাকিব জানিয়েছেন, তিনি খেলতে আগ্রহী। তাই বোর্ড তার খেলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সাকিব আল হাসানের নামে জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক একটি হত্যা মামলা রয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) তার বিরুদ্ধে মামলা আছে। তবে বিসিবির আরেক পরিচালক আসিফ আকবর বলেন, এসব বিষয় সরকারের এখতিয়ারভুক্ত।
আসিফ আকবর বলেন, সাকিবের ব্যক্তিগত আইনি বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান হবে, সেটা সরকারের ব্যাপার। বোর্ডের দিক থেকে আমরা সাকিবকে দলে চাইছি। বোর্ডের চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের যে তালিকা হবে, সেখানে সাকিবকে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সাকিব দেশে ফিরে অবসর নিতে চান, এটা তার ব্যক্তিগত ইচ্ছা। তিনি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ব্র্যান্ড, এমন খেলোয়াড় আগামী ১০০ বছরেও পাওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, সরকার যদি এখন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, সেটি সরকারি ও আইনগত বিষয়। সাকিব সংসদ সদস্য হওয়ার আগেও বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন, তার বুকে বাংলাদেশের নাম ছিল। সেই সম্মান বিবেচনায় নিয়েই বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বোর্ড সাকিবকে খেলাতে চায়, পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ কী হবে, সেটি বোর্ডের বিবেচ্য নয়। আমরা খেলোয়াড় সাকিবকে নিয়েই ভাবছি।
বাংলাদেশের জার্সিতে সাকিব আল হাসান সর্বশেষ মাঠে নেমেছিলেন গত বছরের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে অবসর নেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তিনি আর দেশে ফিরতে পারেননি।
এদিকে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আমজাদ হোসেন বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ভারতে গিয়ে খেলা বাংলাদেশের জন্য নিরাপদ নয়। সে কারণে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ করা হয়েছিল। একাধিক বৈঠক হলেও আইসিসি সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। যেহেতু আইসিসি রাজি হয়নি, তাই বিসিবির করার মতো তেমন কিছু ছিল না, কারণ এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।
তিনি আরও বলেন, সরকার মনে করছে ভারতে গিয়ে খেলা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপদ নয়। সেই বিবেচনা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এনএন/ ২৫ জানুয়ারি ২০২৬





