তেহরান, ১২ মার্চ – আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে। বৈশ্বিক এই আসরে ইরানকে স্বাগত জানানোর কথা জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আপাতত সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিচ্ছে না দেশটি। ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ ডোনিয়ামাল জানিয়েছেন, বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার মতো অবস্থায় তারা নেই। শেষ মুহূর্তে কোনো নাটকীয় পরিবর্তন না হলে এবারের বিশ্বকাপে খেলছে না ইরান।
এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য এই মেগা টুর্নামেন্টে একটি দলের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। ইরানের জায়গায় কোন দেশ সুযোগ পাবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই হিসাবনিকাশ শুরু হয়েছে। এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত যে মহাদেশের দল নাম প্রত্যাহার করে নেয়, সেই মহাদেশ থেকেই বিকল্প দল বেছে নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে প্রত্যাহার করা দলের গ্রুপের রানারআপ কিংবা সংশ্লিষ্ট মহাদেশ থেকে যোগ্যতা অর্জন না করা সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী দল সুযোগ পেতে পারে।
দ্বিতীয় শর্তটি বিবেচনায় নিলে বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের। কারণ এশিয়া মহাদেশ থেকে যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়া দলগুলোর মধ্যে তারাই র্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দেওয়া হতে পারে ইরাককেও। চলতি মাসে আন্তঃমহাদেশীয় বাছাইপর্বে বলিভিয়া অথবা সুরিনামের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইরাক। ফিফা যদি ইরাককে সরাসরি সুযোগ দেয়, তবে তাদের জায়গায় বাছাইপর্ব খেলতে হতে পারে আমিরাতকে।
আবার ইরাক যদি প্লেঅফ জিতে মূল পর্বে ওঠে, তাহলে এশিয়ার সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী হিসেবে আমিরাত সরাসরি ইরানের জায়গা নিতে পারে। এর বাইরে ফিফা চাইলে এশিয়া থেকে কোনো দল না নিয়ে বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে অন্য কোনো দেশকে সুযোগ দিতে পারে। সেক্ষেত্রে যোগ্যতা অর্জন না করা দলগুলোর মধ্যে শীর্ষে থাকা ইতালি সরাসরি সুযোগ পেতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল ও বিতর্কিত হওয়ায় ফিফা এমন পথে হাঁটবে না বলেই মনে করছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা।
এস এম/ ১২ মার্চ ২০২৬






