বাংলাদেশের এখন টেস্টে রাজত্ব করার সময় এসেছে: হাসান – Sarabangla

বাংলাদেশের এখন টেস্টে রাজত্ব করার সময় এসেছে: হাসান – Sarabangla

পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টের উন্নতির পর থেকেই টেস্টে নিয়মিত ভালো করছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় টেস্টে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে। সেই বদলের অন্যতম নায়ক পেসার হাসান মাহমুদ এখন আর শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ভাবছেন না, বরং টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের আধিপত্য দেখার স্বপ্ন দেখছেন।

২৬ বছর বয়সী হাসানের বিশ্বাস, বাংলাদেশের এই দলটার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার সুযোগ আছে। হাসান মনে করেন, বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট এখন নতুন পর্যায়ে ঢুকে গেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসান বলেন, ‘ধারাবাহিকতার হাওয়া এখন আমাদের পক্ষেই বইছে। দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও সার্বিক চিত্রটা এমন জায়গায় এসেছে, যেখানে বিশ্ব টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন নিজের প্রভাব বিস্তার করতে প্রস্তুত।’

অতীতের সঙ্গে বর্তমানের পার্থক্যটাও স্পষ্ট করেছেন এই পেসার, ‘আগে আমরা টেস্টে সেভাবে রাজত্ব করতে পারিনি, তবে এখন সেই সময়টা এসেছে।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউন টেস্টে সেই স্মরণীয় জয়ে বড় অবদান হাসানের। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে হয়েছিলেন ম্যাচসেরা। অবশ্য দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে বাংলাদেশ। তবু দুই ম্যাচের ওই সফরকে বড় অর্জন হিসেবেই দেখছেন হাসান। কারণ, ডারউইনের জয় ছিল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। আর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে হারানো চাট্টিখানি কথা নয়।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলতি সার্কেলে এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচে তিন জয়, দুই হার ও এক ড্র নিয়ে বাংলাদেশ আছে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে। সামনে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি করে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি টেস্ট—মোট ছয় ম্যাচ।

হাসানের হিসাবটা সরল, ‘ঘরের মাঠে বাকি চারটি ম্যাচ জিততে পারলে আমরা বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলব না কেন? বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে ভাবনাটা এখন সেখানেই পৌঁছে গেছে।’

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে পরিবর্তনের বড় জায়গা পেস বোলিং। হাসান, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম, এবাদত হোসেনদের নিয়ে গড়ে ওঠা পেস আক্রমণ এখন যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই বড় হুমকি। ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের পেসাররাই অস্ট্রেলিয়ার ১০ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন।

অস্ট্রেলিয়ায় সেই স্মরণীয় পারফরম্যান্স বিষয়ে হাসান বলেন, ‘আমার কাজ ছিল কেবল নিখুঁত জায়গায় বোলিং করে যাওয়া এবং কোনো অবস্থাতেই রান করার সুযোগ না দেওয়া। শর্ট বল ও বাউন্সার দিয়ে তাদের পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনাতেই অনড় ছিলাম। রান হলে হবে, তা নিয়ে ভাবিনি।’

কদিন পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। তারপর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ। ২৮ অক্টোবর মিরপুরে শুরু হবে দুই ম্যাচের সিরিজ, দ্বিতীয় টেস্ট ৫ নভেম্বর সিলেটে। এরপর ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ।

হাসান বলেছেন, ‘টেস্টে দল হিসেবে আমাদের কতটুকু উন্নতি হয়েছে, তা স্পষ্ট। পেসাররা যদি ফিট থাকেন আর ব্যাটাররা রান পেয়ে যান, তবে খুব দ্রুতই আমরা ক্রিকেটের আরও উঁচু স্তরে পৌঁছে যাব।’

হাসানের শেষ কথাটা হয়ে থাকল বাংলাদেশের নতুন টেস্ট স্বপ্নের সারাংশ।

Scroll to Top