অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে মোটেও ভালো খেলতে পারল না বাংলাদেশ। ডারউইনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ইনিংস ও ৩৮ রানে হেরেছে টাইগাররা। ম্যাচে ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা ছিল সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো। তবে পরাজয়ের মাঝেও স্বস্তির খবর এসেছে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামকে ঘিরে।
প্রথম ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের সেঞ্চুরিতে ২৬৩ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ ৩৫৫ রান তুলে ৯২ রানের লিড নেয়। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে সেই লিড তো দূরের কথা, ম্যাচটিকে অন্তত চতুর্থ ইনিংসে নেওয়ার মতো লড়াইটুকুও করতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ।
দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলে ২ উইকেটে ১৯ রান নিয়ে দিন শেষ করেছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনে দ্রুত উইকেট হারিয়ে মাত্র ৫৪ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। অর্থাৎ শেষ দিনে ৩৫ রান যোগ করতেই বাকি আট উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।
ওভারনাইট ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিম ৪১ বলে ২২ রান করে দ্বিতীয় ইনিংসে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। এছাড়া সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক ও মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাট থেকে এসেছে ৬ রান করে। দলের আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরও পেরোতে পারেননি।
স্বাগতিকদের হয়ে বল হাতে একাই বাংলাদেশকে ধসিয়ে দেন ক্যাম্পবেল থম্পসন। মাত্র ১১ ওভারে ২৫ রান খরচ করে ৮ উইকেট শিকার করেন তিনি। এর মধ্যে দুটি ছিল মেডেন ওভার। তাঁর বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটাররা কার্যত কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেননি।
প্রস্তুতি ম্যাচে এমন ব্যাটিং বিপর্যয় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মূল সিরিজের আগে বাংলাদেশের জন্য বড় সতর্কবার্তা। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে এই ম্যাচটির গুরুত্ব ছিল অনেক। কিন্তু তিন দিনের ম্যাচেই ব্যাটিংয়ের দুই ইনিংসে দলকে বেশ ভঙ্গুর দেখা গেছে।
তবে হারের মধ্যেও স্বস্তির জায়গা তাইজুল ইসলাম। ম্যাচের প্রথম দিন ব্যাটিং করার সময় আঙুলে চোট পেয়েছিলেন এই অভিজ্ঞ স্পিনার। চোটের কারণে প্রথম ইনিংসে বলও করতে পারেননি। ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে তাঁর খেলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
সেই শঙ্কা এখন কিছুটা কমেছে। বাংলাদেশ দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাইজুলের আঙুলের ব্যথা ও ফোলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রথম টেস্টের আগে কয়েক দিন সময় থাকায় তাঁকে সুস্থ করে তোলার ব্যাপারে আশাবাদী টিম ম্যানেজমেন্ট।
বায়েজিদুল বলেন, ‘প্রথম দিনে চোট পাওয়ার পর তাইজুলের ব্যথা ও ফোলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রথম টেস্টের আগে এখনও পাঁচ দিন সময় আছে। চোট নিয়ে কাজ করার জন্য আমাদের হাতে আরও চার দিন রয়েছে। তাই আমরা আশা করছি, এই সময়ের মধ্যে সে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে প্রথম টেস্টের জন্য প্রস্তুত থাকবে।’
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে ১৩ আগস্ট ডারউইনে। দ্বিতীয় টেস্ট ২২ আগস্ট ম্যাকেতে।




