আদর্শ বন্ধুর ৫ গুণ
হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম আবু হামিদ আল-গাজালি (রহ.) তাঁর কালজয়ী ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন গ্রন্থে আলোচনা করেছেন যে, যাকে দীর্ঘ মেয়াদে অন্তরঙ্গ বন্ধু বানানো হবে, তার ভেতর পাঁচটি গুণ থাকা অপরিহার্য:
১. বুদ্ধিমত্তা ও প্রজ্ঞা: নির্বোধ বা মূর্খ মানুষের বন্ধুত্বে কোনো কল্যাণ নেই; কারণ সে অনেক সময় উপকার করতে গিয়ে নিজের অজান্তেই বড় ক্ষতি করে ফেলে।
২. উত্তম চরিত্র: যার রাগ, লালসা ও আবেগ অনিয়ন্ত্রিত, তার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী কল্যাণকর সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব নয়।
৩. পাপাচারমুক্ত জীবন: যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে কবিরা গুনাহে লিপ্ত থাকে এবং আল্লাহকে ভয় করে না, সে কখনো বিশ্বস্ত বন্ধু হতে পারে না; কারণ যে স্রষ্টার হক নষ্ট করে, সে সৃষ্টির হকও যেকোনো সময় নষ্ট করতে পারে।
৪. বিভ্রান্তিমুক্ত বিশ্বাস: ভ্রান্ত মতাদর্শ ও বিদআতে নিমজ্জিত ব্যক্তির সাহচর্য অন্তরে ইমানি সংশয় তৈরি করে।
৫. দুনিয়ার মোহগ্রস্ত না হওয়া: যে ব্যক্তি দুনিয়ার পদমর্যাদা, অর্থবিত্ত ও ভোগের পেছনে অন্ধের মতো ছোটে, তার সঙ্গ মানুষের অন্তর থেকে আখিরাতের চিন্তা মুছে দেয়। (ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন, ২/১৭১-১৭৫, দারুল মারিফাহ, বৈরুত)
পরকালের চিরস্থায়ী বন্ধুত্ব
দুনিয়াতে স্বার্থপর ও অসৎ বন্ধুদের মিষ্টি কথায় ভুলে যারা পথভ্রষ্ট হয়, কিয়ামতের দিন তাদের আক্ষেপের কোনো সীমা থাকবে না।
পবিত্র কোরআনে সেই অন্তিম কান্নার দৃশ্য তুলে ধরে আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘জালিম ব্যক্তি সেদিন নিজের হাত কামড়ে বলবে—হায়, আমি যদি রাসুলের সঙ্গে সৎপথ অবলম্বন করতাম! হায়, দুর্ভোগ আমার! আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম! আমার কাছে উপদেশ পৌঁছানোর পর সে-ই তো আমাকে তা থেকে বিভ্রান্ত করেছিল…।’ (সুরা ফুরকান, আয়াত: ২৭-২৯)
পার্থিব স্বার্থে গড়ে ওঠা সমস্ত বন্ধুত্ব পরকালে চরম শত্রুতায় রূপ নেবে; শুধু ব্যতিক্রম হবে তাকওয়ানির্ভর বন্ধুত্ব। আল্লাহ–তাআলা ঘোষণা করেন, ‘বন্ধুরা সেদিন একে অপরের পরম শত্রু হয়ে দাঁড়াবে—মুত্তাকি বা খোদাভীরুরা ছাড়া।’ (সুরা জুখরুফ, আয়াত: ৬৭)
