বধ্যভূমি সংরক্ষণ প্রকল্পে গতি নেই

বধ্যভূমি সংরক্ষণ প্রকল্পে গতি নেই

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কাজ এগিয়ে নিতে গণপূর্তসহ অন্যদের যে সহযোগিতা দেওয়ার কথা ছিল, তাদের সহযোগিতার অভাব রয়েছে। বধ্যভূমি ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য যেসব জায়গা বধ্যভূমি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তার বেশির ভাগই ব্যক্তিমালিকানাধীন। স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য নকশা অনুযায়ী ১৯ শতাংশ জমি লাগার কথা থাকলেও সেই পরিমাণ জমি পাওয়া যাচ্ছে না। তাই জমির পরিমাণ ৬ থেকে ১৯ শতাংশ করে নকশায় পরিবর্তন আনা হয়। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবেও (ডিপিপি) এ জন্য সংশোধন আনতে হবে। এ ছাড়া বধ্যভূমির জন্য নির্ধারিত স্থানের অনেকগুলোতে জমির তফসিল, মৌজা, খতিয়ানে ওই দাগ নেই।

সূত্র বলছে, কিছুসংখ্যক বধ্যভূমির জমির তফসিল ও প্রকৃত বধ্যভূমির অবস্থানের সঙ্গে গরমিল রয়েছে। এ ছাড়া ডিপিপিতে যে জমির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা খাসজমি হলেও ব্যক্তিগত জমির মূল্য ধরা হয়েছে। আবার কিছুসংখ্যক খাসজমি ও ব্যক্তিগত জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো মূল্য ধরা হয়নি। এ ছাড়া এ প্রকল্পে কারা কাজ করবে, তা নিয়েও জটিলতা রয়েছে। যদিও সরকারি খাসজমিতে বধ্যভূমি থাকলে তা ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে এক হাজার টাকার প্রতীকী মূল্যে বন্দোবস্ত নেওয়া এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে বধ্যভূমি থাকলে প্রচলিত অধিগ্রহণের নিয়ম অনুসরণ করার বিধান রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম থেকেই জমি পাওয়া যায়নি বলে ওই প্রকল্পে কিছুটা ধীরগতি রয়েছে। জনবলের ঘাটতি রয়েছে, প্রকল্প পরিচালক তাঁর নিজের দায়িত্বের পাশাপাশি এ কাজ করেন।

এর আগে বিএনপি সরকারের সময় ২০০৪ সালে ৩৫টি বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। ২০০৮ সাল পর্যন্ত ওই প্রকল্পে ৬০ কোটি টাকা খরচ হয়। কিন্তু বেশির ভাগ বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়নি। যেগুলোতে করা হয়েছে, সেগুলো এখন বেহাল। ২০১০ সালে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার আবার বধ্যভূমি সংরক্ষণের প্রকল্প হাতে নেয়। প্রথম থেকেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব ছিল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের।

Scroll to Top