মিচেল স্টার্কের আগুনে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসেও বিপদে পরেছে অজি পেসারের সামনে। অস্ট্রেলিয়ার ১৪৬ রানের লিডের জবাব দিতে নেমে দ্বিতীয় দিনে ৬৮ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ।
টেস্টে ইনিংস হার এড়াতে এখনো ৭৮ রান প্রয়োজন সফরকারীদের। হাতে আছে কেবল ৪ উইকেট। একমাত্র স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে অপরাজিত আছেন মুশফিকুর রহিম। ৬২ বল খেলে ২০ রান করে অপরাজিত আছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার।
অস্ট্রেলিয়ায়ে শেষ পর্যন্ত ২১০ রান গুটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ১৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে নেমেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারে নিজের চিরচেনা গতির ঝাঁজ দেখান স্টার্ক। প্রথম ইনিংসের মতোই এবারও সাদমান ইসলামকে ফিরিয়ে শুরু করেন তিনি। ফ্লিক করতে গিয়ে টপ এজ তুলে দেন সাদমান, ক্যাচ হয়ে ফেরেন সাজঘরে।
পরের বলেই আরও বড় ধাক্কা। স্টার্কের ভেতরে ঢুকে আসা বল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মুমিনুল হক। কিন্তু বলটি শেষ পর্যন্ত অফ স্টাম্পের বেল উড়িয়ে দেয়। টানা দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে শুরুতেই চাপে ফেলে দেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার।
দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তার সঙ্গে জুটি বাঁধার আগেই ফিরে যান তানজিদ হাসান তামিম।
প্যাট কামিন্সের বাউন্সারে অদ্ভুত এক শট খেলতে গিয়ে ফাইন লেগে ক্যাচ দেন তানজিদ। প্রথম টেস্টেও এমন একটি শট খেলে জীবন পেয়েছিলেন তিনি, পরে সেই ইনিংসই সেঞ্চুরিতে রাঙিয়েছিলেন। এবার ভাগ্য সহায় হলো না বাংলাদেশের এই ওপেনারের।
৩৯ রানে তিন উইকেট হারিয়ে লাঞ্চে যায় বাংলাদেশ। দিনের দ্বিতীয় সেশনেও অজি পেসারদের দাপট অব্যাহত। আক্রমনাত্মক খেলতে থাকা শান্ত অজি স্পিনার নাথান লায়নকে অদ্ভূত এক শট খেলতে গিয়ে আউট। ৪৬ বলে ৬টি চারের সাহায্যে ফিরেছেন ৩১ রান করে। অস্ট্রেলিয়া সফরে আগের দুই ইনিংসের মতো এই ইনিংসেও ডাক লিটন দাস। মিচেল স্টার্কের বলে ক্যাচ দেন স্লিপে। খানিক বাদে প্যাট কামিন্সের বলে মেহেদি হাসান মিরাজও ফিরলে ষষ্ঠ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ডরউইনে দুর্দান্ত টেস্ট জয়ী বাংলাদেশ এখন ইনিংস হার এড়াতে লড়ছে। আর এই লড়াইয়ের বড় আশা মুশফিকুর রহিম।
এর আগে শরিফুল ইসলামের রেকর্ড ৭ উইকেটের সুবাদে অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে থামিয়েছিল বাংলাদেশ। ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে দেশের বাইরে বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েছেন শরিফুল।

