
ওয়াশিংটন, ৯ জুলাই – বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে বৈরী আবহাওয়া ও তীব্র দাবদাহে খেলোয়াড়দের সুরক্ষায় ফিফা প্রবর্তন করেছে ‘ওয়াটার ব্রেক’ নিয়ম। মাঠের তাপমাত্রা যখন প্রায় ১১০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছায় তখন খেলোয়াড়দের শারীরিক ঝুঁকি কমাতে প্রতি ম্যাচে দুইবার তিন মিনিটের বিরতি দেওয়া হয়।
তবে আপাতদৃষ্টিতে একে কেবল স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মানবিক পদক্ষেপ মনে হলেও এর অন্তরালে কাজ করছে এক বিশাল বাণিজ্যিক ও রণকৌশলগত পরিকল্পনা। হিসাব অনুযায়ী টুর্নামেন্টের মোট ১০৪টি ম্যাচে এই বিরতিগুলো যোগ করলে মোট সময়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০ ঘণ্টারও বেশি।
বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে বিজ্ঞাপনের আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে এই অতিরিক্ত সময়টি ফিফার জন্য এক বিশাল আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের একটি বিজ্ঞাপনের মূল্য প্রায় সাড়ে সাত লাখ ডলার সেখানে ১০ ঘণ্টার এই বিরতি থেকে সম্ভাব্য বাণিজ্যিক আয়ের পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি ডলার বা ৫০০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।
বিস্ময়কর তথ্য হলো আমেরিকার ফক্স নেটওয়ার্ক পুরো টুর্নামেন্ট সম্প্রচারের জন্য যে পরিমাণ অর্থে স্বত্ব কিনেছিল এই বিরতির বাণিজ্যিক মূল্য তার চেয়েও বেশি। কেবল অর্থনৈতিক সুবিধাই নয় ফুটবলের মৌলিক ব্যাকরণেও পরিবর্তন এনেছে এই নিয়ম। সনাতন ফুটবলে খেলা চলাকালীন কোচের সরাসরি কৌশল পরিবর্তনের সুযোগ ছিল সীমিত।
এখন এই তিন মিনিটের বিরতিটি রূপ নিয়েছে ‘টাইমআউট’ হিসেবে। খেলোয়াড়রা যখন পানি পানের জন্য কোচের কাছে যান তখন কোচরা পুরো দলের রণকৌশল নতুন করে সাজিয়ে নেওয়ার সুযোগ পান। এর ফলে অনেক সময় প্রতিপক্ষের সেট করা ছক বা খেলার ছন্দ এক নিমেষেই ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়। মূলত মানবিক উদ্যোগের মোড়কে এটি এখন ফুটবল বিশ্বের এক নতুন বাণিজ্যিক ও কৌশলগত অস্ত্র।
এস এম/ ৯ জুলাই ২০২৬






