ফিট রাখতেই জিম্বাবুয়েতে ‘খেলানো হয়েছিল’ নাহিদ রানাকে: বাশার

ফিট রাখতেই জিম্বাবুয়েতে ‘খেলানো হয়েছিল’ নাহিদ রানাকে: বাশার

দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই সিরিজে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল নাহিদ রানাকে নিয়ে। এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে গতিময় পেসার নাহিদ। অস্ট্রেলিয়ার গতিময় পিচে নাহিদ রানার গতির ঝড় তুলবেন এমনটাই ছিল প্রত্যাশা। কিন্তু চোটের কারণে পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন তরুণ পেসার।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে চোটে পরেন নাহিদ। এই চোটে তাকে মাঠের বাহিরে থাকতে হবে আট সপ্তাহ। সমালোচনা হচ্ছে- সামনেই যেহেতু অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে সিরিজ তাহলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কেনো খেলানো হলে নাহিদকে। কিন্তু প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলছেন, ফিট রাখার জন্যই জিম্বাবুয়েতে খেলানো হয়েছে রানাকে!

হাবিবুলের ব্যাখ্যা, ‘আমরা বোলারদের কন্ডিশনকে রেড, গ্রিন এবং ইয়োলো—এই তিনটি জোনে ভাগ করি। একজন ফাস্ট বোলার যদি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বোলিং করে তবে সে যেমন ইনজুরির ঝুঁকিতে (রেড জোন) থাকে, তেমনি যদি তাকে ম্যাচ না খেলিয়ে বসিয়ে রাখা হয়, তবে লোড কম হওয়ার কারণেও সে ইনজুরির ঝুঁকিতে পড়ে যায়। তাই টেস্ট ম্যাচের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হলে একজন বোলারকে নির্দিষ্ট পরিমাণ বল করে ‘গ্রিন জোনে’ থাকতে হয়।’

‘সহজ কথায়, একজন ফাস্ট বোলারকে বসিয়ে রাখা তার জন্য ভালো নয়; তাকে একটি নির্দিষ্ট ছন্দে বোলিংয়ের মধ্যে থাকতে হয়। নাহিদ রানার ক্ষেত্রেও এই চিন্তাভাবনা থেকেই তাকে ম্যাচ খেলানো হয়েছিল। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে সে ইনজুরড হয়েছে, তবে এই ইনজুরি অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েও হতে পারত।’

ফাস্ট বোলারদের ক্ষেত্রে বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেছেন সুমন। বলেছেন, ‘ফাস্ট বোলারদের ইনজুরিমুক্ত রাখা সবসময়ই কঠিন একটি কাজ। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, আমরা শতভাগ চেষ্টা করেও ইনজুরি পুরোপুরি এড়াতে পারি না, বড়জোর তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে পারি। আমরা নাহিদ রানার প্রতি প্রতিটি মুহূর্তে বাড়তি যত্ন নিচ্ছি এবং অনেক নিয়ম মেনে চলছি, তারপরও এমন ইনজুরি আমাদের সবার জন্যই অত্যন্ত দুঃখজনক।’

শুধু নাহিদ রানা নয়, প্রতিটি খেলোয়াড়ের ফিটনেস নিয়েই বাংলাদেশ দল এখন বাড়তি সতর্ক বলেছেন সুমন। তিনি বলেন, ‘নাহিদ রানার ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের বিষয়টি এখন আর শুধু মুখে বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমানে জিপিএস ট্র্যাকারের মাধ্যমে ক্রিকেটারদের প্রতিটি মুভমেন্ট ট্র্যাক করা হয় এবং সেই তথ্য অনুযায়ী নির্ধারিত হয় কে কোন সিরিজে কয়টি ম্যাচ খেলবে। নাহিদ রানা ছাড়াও তাসকিনসহ আমাদের যত ফাস্ট বোলার আছে, সবার ক্ষেত্রেই এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।’

দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের উদাহরণ টেনে হাবিবুল বাশার বলেন, ‘নাহিদ রানার ক্ষেত্রে যদি দেখেন, আমরা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে (ঘরের মাঠে সিরিজে) তাকে সব ম্যাচ খেলাইনি। সে প্রথমে দুটি ওয়ানডে খেলার পর এক সপ্তাহের বিরতি পেয়েছে এবং এরপর দুটি টি-টোয়েন্টি খেলেছে। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট অনুযায়ী সে টেস্ট খেলার জন্যও এভেইলেবল ছিল। এমনকি ফিজিওর রিপোর্ট অনুযায়ী সে এবং আমাদের বাকি নিয়মিত ফাস্ট বোলাররা টেস্ট খেলার জন্য সম্পূর্ণ ফিট ছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া যেহেতু আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ, তাই বাড়তি সতর্কতা হিসেবে আমরা তাকেসহ আমাদের মূল তিনজন ফাস্ট বোলারকে টেস্টে খেলাইনি।’

Scroll to Top