দুদিন পর সকালে রিকশায় করে কোর্টের উদ্দেশে রওনা দিয়েছি, পথে রাস্তার পাশে দেখি সেই মেয়ে! একটা বাসন্তী রঙের পাঞ্জাবি ছাঁটের কামিজ পড়েছে। সকালের সোনা রোদে তার শরীরের ঔজ্জ্বল্য আরও বেড়েছে। চলমান রিকশায় যতটা দেখা যায়, তাকে দেখলাম!
আদালতে মন বসে না। তাকে দেখতে বিকেলের মধ্যেই চলে এলাম। আশ্চর্য! বাসস্ট্যান্ডে নেমেই তার সঙ্গে দেখা। সে তখন কোথাও রওনা দিয়েছে। তার পাশের লাগেজ দেখে বোঝা যায়, বেশ দূরের পথ। আমাকে দেখে সে উচ্ছ্বসিত। চোখ জোড়া খুব চঞ্চল। আমার চোখের ভাষা সে তাহলে পড়তে পেরেছে!
বাস আসতে একটু দেরি হওয়ার সুযোগে সে কৌশলে আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলল, ‘গোপালগঞ্জ এখান থেকে ১৫০ কিলোমিটার। যদিও বাসস্ট্যান্ডের কাছেই বাসা, তবু অনেক রাত হয়ে যাবে। আমি শিলা; কোনো কিছু পরোয়া করি না। কিন্তু দুশ্চিন্তা তো আছেই…’
মানে তার নাম শিলা? নাম শুনে কী যে আনন্দ! ভাবলাম একটু আলাপ করি, কিন্তু বাস চলে আসায় সে সুযোগ আর হলো না। যতটা পারা যায়, তার চলে যাওয়া বাসটা দেখছিলাম। হঠাৎ মনে হলো, সে জানালা দিয়ে হাতের ইশারায় বলছে, বাই!
বেশ কিছুদিন পর ঝোঁকের বসে গোপালগঞ্জগামী বাসের উদ্দেশ্যে ছুটলাম কমফোর্ট লাইন কাউন্টারে। গাড়ি আর সিট দুটোই পেলাম। গাড়ি ছুটছে। ১৫০ কিলোমিটার পথ। গোপালগঞ্জে কোনো দিন যাইনি। তারপরও কী এক অনিবার্য টানে মন-প্রাণ ছুটতে থাকে। সেই প্রিয় মুখ, চোখ; বারবার মনে ভেসে ওঠে আর ভাবি, দেখা পাব তো?




