পশ্চিমবঙ্গে ‘ইন্ডিয়া’ জোটে জটিল রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ 

পশ্চিমবঙ্গে ‘ইন্ডিয়া’ জোটে জটিল রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ 

পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের নেতারা মনে করছেন, রাহুলের তিন দিনের দিল্লি সফরের মূল লক্ষ্য ইন্ডিয়া জোটকে কিছুটা গুছিয়ে নেওয়া। কারণ, জোট শরিকের অন্তত চার নেতা আসন সমঝোতা নিয়ে প্রবল চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেছেন। এই চার নেতা হলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল (পাঞ্জাবে তাঁর দল আম আদমি পার্টি ক্ষমতায়), উত্তর প্রদেশে অখিলেশ যাদব, বিহারে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ও পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গত বুধবার মমতা বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো আসন–রফা হচ্ছে না। তাঁর কথায়, ‘কারও সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। আমি মনে করি, প্রথম থেকেই ওরা আমাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তখন থেকেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বাংলায় আমরা একাই লড়ব।’ 

কংগ্রেস অবশ্য মমতাকে সঙ্গে নিয়ে চলার চেষ্টা চালাচ্ছে। গত মঙ্গলবার আসামে রাহুল গান্ধী বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। এর ফল কিছুদিনের মধ্যেই প্রকাশ্যে আসবে।

রাহুলের কথার সূত্র ধরে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ আসামে সাংবাদিকদের বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু তৃণমূল বা পশ্চিমবঙ্গের নন, দেশের একজন বড় নেতা। তিনি ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম প্রধান শরিক। তৃণমূলকে বাদ দিয়ে ইন্ডিয়া জোট সম্ভব নয়।

রমেশ আরও বলেন, রাহুল স্পষ্টই বলেছেন, বিজেপিকে হারাতে হবে। এ জন্য মমতাকে প্রয়োজন। তাঁকে ছাড়া একটি সার্বিক জোট
সম্ভব নয়।

তবে তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মমতাকে সঙ্গে চাইলেও চান না দলের রাজ্য সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি ধারাবাহিকভাবে মমতাকে আক্রমণ করছেন।

রাজ্যসভায় দলের নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, ইন্ডিয়া ব্লকের অনেক নিন্দুক রয়েছে। তবে কেবল বিজেপি ও অধীর চৌধুরী ব্লকের বিরুদ্ধে বেশি কথা বলেছেন। কণ্ঠস্বর তাঁর, তবে কথাগুলো দিল্লির দুজনের নির্দেশে তিনি এসব বলছেন। দুই বছর ধরে তিনি বিজেপির ভাষায় কথা বলেছেন।

ডেরেক ও’ব্রায়েনের এই অভিযোগের জবাবে অধীর চৌধুরী তাঁকে ‘বিদেশি’ বলে মন্তব্য করেন। বলেন, ‘উনি অনেক বেশি বোঝেন। ওনাকেই এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করুন।’

Scroll to Top