কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় নিজেদের উন্নত একটি স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে এআই স্টার্টআপ হাগিংফেসের অবকাঠামোয় সাইবার হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ওপেনএআই।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ওপেনএআই এর দাবি, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে তাদের অত্যাধুনিক কিছু এআই মডেলের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হচ্ছিল। তবে পরীক্ষার একপর্যায়ে এজেন্টটি নির্ধারিত সীমাবদ্ধতা ভেঙে ইন্টারনেটে প্রবেশ করে এবং পরীক্ষার লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে হাগিংফেসের সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে।
প্রতিষ্ঠানটি এ ঘটনাকে অভূতপূর্ব সাইবার ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের ভাষ্য, এতে অত্যাধুনিক সাইবার সক্ষমতাসম্পন্ন এআই ব্যবহার হয়েছে। ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে ওপেনএআই।
ওপেন সোর্স লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) এবং ডেটাসেট হোস্টিং প্ল্যাটফর্ম হাগিংফেস গত সপ্তাহে এক ব্লগ পোস্টে জানিয়েছিল, তারা এমন একটি সাইবার হামলার শিকার হয়েছে যা আগে কখনও দেখেনি।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি ছিল, হামলাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট সিস্টেম পরিচালনা করেছে।
হাগিংফেসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্লেমেন্ট ডেলাঙ্গু এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, হামলার জটিলতা দেখে তারা ধারণা করেছিলেন এটি কোনো শীর্ষস্থানীয় এআই গবেষণাগার থেকে হয়ে থাকতে পারে। পরে ওপেনএআইয়ের প্রকাশিত তথ্যের পর তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত সেটাই সত্যি হলো। পুরো ঘটনাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটেছে, যা সত্যিই বিস্ময়কর।’
নিরাপত্তার জন্য ‘অত্যন্ত বিচ্ছিন্ন পরিবেশে’ রাখা উন্নত এআই মডেলই এই অনুপ্রবেশের জন্য দায়ী ছিল বলে ওপেনএআই স্বীকার করায়, অত্যাধুনিক এআই মডেলের ক্ষমতা ও ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি গ্রেগ কাসার এ ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘মানুষকে নিরাপদ রাখতে কার্যকর কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই এআই অত্যন্ত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বাধ্যতামূলক স্বাধীন নিরাপত্তা পরীক্ষা, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনার বাধ্যতামূলক প্রকাশ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে মার্কিন ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরের দপ্তর, সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সিসা (সিআইএসএ) এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ) তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
লুটা সিকিউরিটির প্রধান নির্বাহী কেটি মুসৌরিস বলেন, এ ঘটনা ভবিষ্যতে আরও এমন সাইবার অনুপ্রবেশের পূর্বাভাস হতে পারে। তার ভাষায়, বর্তমানের উন্নত এআই মডেলগুলো ‘পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান অক্টোপাসের মতো, যারা প্রায় যেকোনো সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে সক্ষম।’
তিনি বলেন, এআই নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তা শনাক্ত, পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত জানাতে গবেষণাগার ও সরকারি মূল্যায়নকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। বর্তমানে এমন কার্যকর ব্যবস্থা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এজেন্টভিত্তিক এআই সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান টলমোর প্রকৌশলী ম্যাট সুইচ বলেন, ঘটনাটি প্রমাণ করেছে যে অত্যাধুনিক এআই মডেলগুলো রাষ্ট্রীয় মানের সাইবার হামলাকারীদের সক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। তবে ওপেনএআই যে ধরনের অনুপ্রবেশের কথা বলেছে, তা শুধু শীর্ষ গবেষণাগারের প্রযুক্তি দিয়েই সম্ভব নয়।
তার ভাষায়, ‘আমরা নিজেদের এআই এজেন্ট দিয়েই এরকম ফলাফল ইতোমধ্যে দেখেছি। এমনকি সর্বশেষ মডেল ব্যবহার করারও প্রয়োজন হয়নি।’




