
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা, যা এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম বড় উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও অসচেতনতার কারণে এই রোগটি ঘরে ঘরে ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে জেঁকে বসছে। তবে আশার কথা হলো, সঠিক জীবনধারা ও কিছু নিয়ম মেনে চললে টাইপ-২ ডায়াবেটিস প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিরোধ করা সম্ভব।
আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ‘ডায়াবেটিস সেবা দিবস’ উপলক্ষে দেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকরা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে গণসচেতনতা তৈরি এবং দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তনের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
কেন বাড়ছে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি?
চিকিৎসকদের মতে, আধুনিক যান্ত্রিক জীবনে শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ, স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন এবং তীব্র মানসিক চাপ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ানোর অন্যতম কারণ। বিশেষ করে বংশে কারও ডায়াবেটিস থাকলে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তবে সচেতন হলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
ডায়াবেটিস প্রতিরোধের মূল কৌশল
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে দৈনন্দিন জীবনে পাঁচটি বিষয়ে পরিবর্তন আনা জরুরি:
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম: অলস জীবনযাপন ত্যাগ করে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা, দৌড়ানো, সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালানোর মতো ব্যায়াম করতে হবে। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।
সুষম খাদ্যতালিকা: খাবারে ভাজাপোড়া, মিষ্টি, কোমল পানীয় এবং অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট যেমন সাদা ভাত বা ময়দা কমিয়ে দিতে হবে। এর বদলে আঁশযুক্ত খাবার, সবুজ শাকসবজি, ফলমূল এবং লাল চাল বা লাল আটার রুটি খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: শরীরের অতিরিক্ত ওজন ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। তাই উচ্চতা অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা জরুরি।
মানসিক চাপ ও পর্যাপ্ত ঘুম: অতিরিক্ত মানসিক চাপ রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। চাপমুক্ত থাকতে ইয়োগা বা মেডিটেশন করা যেতে পারে। পাশাপাশি প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: বিশেষ করে যাদের বয়স ৩৫ বছরের বেশি বা পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস আছে, তাদের বছরে অন্তত একবার রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত। এ ক্ষেত্রে ফাস্টিং ব্লাড সুগার এবং এইচবিএ১সি পরীক্ষা করা যেতে পারে।
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস একবার হলে তা পুরোপুরি নিরাময় হয় না। তবে রোগটি নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব। তাই রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার পেছনে ছোটার চেয়ে ‘প্রতিরোধই সর্বোত্তম প্রতিকার’ এই নীতি মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
