নির্বাচনের দিন বিএনপির হরতাল, সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

নির্বাচনের দিন বিএনপির হরতাল, সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে প্রকাশ্যে মারধরের হুমকি দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মুজিবুল হক চৌধুরী।

ফের দুদকের মামলার ফাঁদে পড়ে আলোচনায় আসেন তিনি। সেই আলোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্টকে ঢুকতে না দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে আলোচনায় আসেন এই চেয়ারম্যান। হুমকির বিষয়টি অবগত হয়ে চেয়ারম্যান মুজিবের কর্মকাণ্ড নজরে রাখা শুরু করেছে নির্বাচন কর্মকর্তা ও পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল প্রতীকের মুজিবুর রহমানের প্রতিনিধি আওয়াল হোসেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের কাছে মুজিবুলের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরী ওই আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অনুসারী। প্রকাশ্য সভায় হুমকি দেয়ার বিষয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে ঈগলের প্রার্থী মুজিবুর রহমানের পক্ষে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২ জানুয়ারি বাঁশখালীর ছনুয়া বাজারে নৌকার প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর সমর্থনে এক পথসভায় অংশ নেন ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরী। সভায় বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীর কোনো এজেন্ট কেন্দ্রে থাকতে দেব না। ৫ তারিখের পর বুঝতে পারবি মুজিব চেয়ারম্যান কি জিনিস।’

মুজিবুলের এ বক্তব্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে জনমনে ভীতি সঞ্চার হয়েছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন উল্লেখ করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করা হয়েছে।

আসনটির সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিনা আক্তার বলেন, ‘আমাকে অবগত করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। উনার (মুজিবুল) আরও কয়েকটি অভিযোগ জমা পড়েছে। সর্বশেষ উনি স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্ট কেন্দ্রে ঢুকতে দেবেন না বলে হুমকি দেয়ার অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কাছে তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বাঁশখালী থানাকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।’

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ছনুয়ায় নির্বাচনী সভা থেকে ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল হক হুমকি দিয়েছেন বলে আমি অবহিত হয়েছি। বিষয়টি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন সংক্রান্ত অভিযোগ। নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে আমাদের যেভাবে নির্দেশনা দেবে, সেভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে তাকে আমরা নজরে রেখেছি।’

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরীকে ফোন দিলে তার মোবাইল বন্ধ থাকায় বক্তব্য জানতে পারেনি।

জানা যায়, গত ৬ নভেম্বর বাঁশখালীর এক জনসভায় মুজিবুল হক চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে হুমকি দেন। ওই সমাবেশে তিনি বলেছিলেন, পিটার হাস বলছেন, এখানে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। পিটার হাস আমরা আপনাকে ভয় পাই না। আমরা মোটা চালের ভাত খাই। আপনি বিএনপির ভগবান। কিন্তু আমরা আওয়ামী লীগ ইমান বেচি না। আপনাকে এমন মারা মারব, বাঙালি কত দুষ্টু তখন বুঝতে পারবেন।

এই অভিযোগে গত ১৩ নভেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা শাকিলা সুমু চৌধুরীর আদালতে এবং ২৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালাউদ্দিনের আদালতে আলাদা মামলার আবেদন করা হয়। তবে দুইবারই মামলার আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল।

গত বছরের ২৮ মে চেয়ারম্যান নির্বাচনের সময় ইভিএম নিয়ে মুজিবুলের বিতর্কিত মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় হ্যান্ডমাইকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘রিকশায় করে বা যেভাবে পারেন এসে ভোট দিন। কারণ ইভিএমে ভোট। ইভিএম না হলে সব সিল আমিই মেরে দিতাম, কাউকে খুঁজতাম না। কথা বোঝেননি, ইভিএমে আইডি কার্ড না ঢুকালে ভোট হয় না। হলে ভোট আমি রাতেই নিয়ে নিতাম। তাই আপনাদের কষ্ট করে সেটি (জাতীয় পরিচয়পত্র) নিয়ে যেতে হবে। মেশিনে ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে হবে। আপনারা কষ্ট করে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। আঙুলের ছাপ দিয়ে ভোট দেবেন। ছাপ দিতে না পারলে সেখানে আমি ছাপ দেওয়ার মানুষ রাখব। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।

গত ৩১ ডিসেম্বর মুজিবুল হক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ ভোগদখলের অভিযোগে আলাদা দুটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। মুজিবুলের বিরুদ্ধে ৫৬ লাখ ৭১ হাজার ১৪ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ এবং স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৮৬ লাখ ৬২ হাজার ৭৯৭ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

বাঁশখালী আসনে আওয়ামী লীগের দুই নেতা মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। এদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী তৃতীয়বারের মতো নৌকা প্রতীক পেয়েছেন। অন্যদিকে দক্ষিণ জেলা আওয়াম লীগের সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান ঈগল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

Scroll to Top