নতুন প্রকাশিত এক ভিডিও ফুটেজে প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনকে নিজের পরিচয়, সম্পদের উৎস এবং যৌন অপরাধের অভিযোগ নিয়ে একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে দেখা গেছে। প্রায় দুই ঘণ্টা দীর্ঘ ওই সম্পূর্ণ ভিডিও ফাইলটি গত শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি মার্কিন বিচার বিভাগে প্রকাশ করা হয়।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, একজন অজ্ঞাত পরিচয়ের সাক্ষাৎকারীর প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন এপস্টেইন। কে এই প্রশ্ন করছেন, কখন এবং কোন প্রেক্ষাপটে ফুটেজটি ধারণ করা হয়েছে—এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।
প্রশ্নকারী এপস্টেইনকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কি নিজেকে ‘শয়তান’ মনে করেন। জবাবে এপস্টেইন বলেন, তিনি নিজেকে শয়তান মনে করেন না, তবে তার কাছে একটি ‘ভালো আয়না’ আছে—যার মাধ্যমে তিনি নিজেকে দেখতে পারেন।
আলোচনার আরেক অংশে এপস্টেইনের বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা হয়, তার অর্থ কি অবৈধ উপায়ে অর্জিত। এপস্টেইন তা অস্বীকার করে দাবি করেন, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই তিনি এই সম্পদ অর্জন করেছেন। তবে প্রশ্নকারী উল্লেখ করেন, তিনি বিশ্বের ‘সবচেয়ে খারাপ কিছু মানুষের’ পরামর্শ দিয়ে অর্থ উপার্জন করেছেন, যারা ভয়াবহ অপরাধে জড়িত।
ভিডিওতে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। প্রশ্নকারী তাকে ‘টিয়ার ওয়ান’ বা সর্বোচ্চ স্তরের যৌন অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করলেও এপস্টেইন নিজেকে ‘সর্বনিম্ন স্তরের অপরাধী’ বলে দাবি করেন।
কথোপকথনের এক পর্যায়ে চরম দারিদ্র্য ও অসুস্থতায় থাকা মানুষের নৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েও আলোচনা হয়। প্রশ্নকারী জানতে চান, সন্তানদের জীবনের প্রয়োজনে হলে মানুষ কি অর্থের উৎস নিয়ে ভাববে। উত্তরে এপস্টেইন বলেন, সন্তানদের জন্য প্রত্যেকেই অর্থ চাইবে—এমনকি যদি বলা হয় যে ‘স্বয়ং শয়তান’ তাদের সন্তানের জীবনের বিনিময়ে সেই অর্থ দিচ্ছে।
আলোচনার শেষদিকে প্রশ্নকারী যুক্তি দেন, এপস্টাইনের মধ্যে শয়তানের বহু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, বিশেষ করে তার অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা। এ প্রসঙ্গে জন মিল্টনের বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম ‘প্যারাডাইস লস্ট’ থেকে শয়তানের চরিত্রের উদাহরণ টানা হয়। উত্তরে এপস্টেইন একটি সিনেমার সংলাপ উদ্ধৃত করেন—’স্বর্গে দাসত্ব করার চেয়ে নরকে রাজত্ব করাই ভালো’—যা শয়তানের দর্শনের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করা হয়।






