নতুন শিক্ষাক্রমের সমালোচনা ও সম্ভাবনা

নতুন শিক্ষাক্রমের সমালোচনা ও সম্ভাবনা

আগের শিক্ষাক্রমটি ছিল অভিজ্ঞা বা ধারণাভিত্তিক। ফলে শিক্ষার্থীর জ্ঞান বা ধারণা পরিমাপ করার জন্য লিখিত পরীক্ষাই ছিল একমাত্র মূল্যায়নের কৌশল। কিন্তু নতুন শিক্ষাক্রমটিতে দক্ষতার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। তাই একে বলা হচ্ছে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাক্রম। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, একজন একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেছে, সেটি পরিমাপ করার জন্য শুধু লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে কি তার এই অর্জিত দক্ষতা পরিমাপ করা সম্ভব?

দক্ষতার ধরন অনুযায়ী মূল্যায়নের কৌশল ও উপকরণ ঠিক করতে হবে। ভিন্ন ভিন্ন দক্ষতার জন্য ভিন্ন ভিন্ন কৌশল ও উপকরণ দরকার হবে। যেমন ভাষার একটি দক্ষতা হলো বলার দক্ষতা। এটি কি লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে পরিমাপ করা সম্ভব? সম্ভব নয়। বলার দক্ষতা পরিমাপ করার জন্য তাকে বলতে দিয়ে পরিমাপ করতে হবে। আবার পড়ার দক্ষতার ক্ষেত্রে লিখিত প্রশ্ন বা পরীক্ষার মাধ্যমে এটি পরিমাপ করা যাবে না।

অন্যদিকে লেখার দক্ষতা পরিমাপ করার জন্য অবশ্যই লিখিত পরীক্ষার বিকল্প নেই। এসব কারণে নতুন শিক্ষাক্রমে মূল্যায়নে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। কিছু দক্ষতা মূল্যায়ন করা হবে ধারাবাহিক মূল্যায়নব্যবস্থা তথা শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে সঙ্গে। প্রতিদিন শিক্ষার্থী যে যে দক্ষতা অর্জন করছে, সেগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য পৃথক তথ্য সংরক্ষণ ফরমে সংরক্ষণ করে বছর বা সেশন শেষে সেগুলো একত্র করে প্রকাশ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এই ব্যবস্থাকে বলা হচ্ছে ধারাবাহিক মূল্যায়ন। আর যেসব দক্ষতার জন্য লিখিত পরীক্ষার প্রয়োজন হবে, সেগুলো পরীক্ষাপদ্ধতির মাধ্যমে করা হবে। এটিকে বলা হচ্ছে চূড়ান্ত মূল্যায়ন। ধারাবাহিক ও পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন শেষে শিক্ষার্থীর পারদর্শিতার মাত্রা আকারে প্রকাশ করা হবে।

নতুন শিক্ষাক্রমের উদ্দেশ্য, শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার কলাকৌশল ও মূল্যায়নব্যবস্থা পর্যালোচনা করে এটা পরিষ্কার যে ইতিপূর্বে যেসব শিক্ষাক্রম দেশে বাস্তবায়িত হয়েছে, তার তুলনায় নতুন শিক্ষাক্রমটি অনেকটা বিজ্ঞানভিত্তিক, সময়–উপযোগী এবং ভালো—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।  

ই-মেইল: [email protected]

Scroll to Top