গত ১৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাত সোয়া ১০টার দিকে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর বারাহিগুণি ছেরাজ মিয়ার বাড়িতে প্রবাসী আতাউর রহমানের স্ত্রী পারুল আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে ঘটনায় মোবারক হোসেন (২০), ইহাব হোসেন শুভ (২০) ও আব্দুল আউয়াল প্রকাশ সাদ্দাম (৩৬) নামে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে দাগনভুঞা থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত মোবারক হোসেন লক্ষীপুর জেলার সদর উপজেলার টুমচুর গ্রামের মঈন উদ্দনের ছেলে। বর্তমানে সে ফেনী সদর উপজেলার মাথিয়ারা এলাকার বাসিন্দা। অন্যজন ইহাব হোসেন শুভ ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারা গ্রামের আফজল মিস্ত্রী বাড়ির মো. সেলিমের ছেলে। গ্রেফতারকৃত আরেক আসামি আব্দুল আউয়াল প্রকাশ সাদ্দাম দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর বারাহিগোবিন্দ গ্রামের মৃত হাজী সিরাজ মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, মরদেহের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় শার্টের দুটি বোতাম। সেই বোতামের সূত্র ধরেই মোবারককে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্য মতে ঘটনায় জড়িত থাকা অন্য সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়।
সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে গ্রেফতারকৃত মোবারক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে মোবারক হোসেন জানায়, ওই রাতে তারা ৩ জন পারুলের ঘরে চুরি করতে প্রবেশ করে। বিষয়টি টের পেয়ে পারুল তার মোবাইলে ভিডিও করতে থাকে। বিষয়টি দেখে মোবারকসহ তার সঙ্গীরা ওই নারীর হাত থেকে মোবাইলটি ছিনিয়ে নিতে জোরজবরদস্তি শুরু করে। মোবাইলটি নিতে না পেরে ওই নারীর মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হলে তারা পালিয়ে যায়।
পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ঘটনার দিন বাড়ির বিভিন্ন কাজ করানোর জন্য পূর্বপরিচিত মোবারক হোসেনকে বাড়িতে ডেকেছিল নিহত পারুল আক্তার। পরে রাত ১০টার দিকে স্বজনরা ঘরের মেঝেতে পারুলের মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।
এ ঘটনায় দাগনভূঞা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করার পর হত্যার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে পুলিশ।
রোববার (১৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোবারক হোসেনকে (২০) গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যমতে সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) হত্যাকাণ্ডে জড়িত ইহাব হোসেন শুভ (২০) এবং আব্দুল আউয়াল প্রকাশ সাদ্দামকে (৩৬) গ্রেফতার করা হয়।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাশিম বলেন, গ্রেফতারকৃত মোবারক ওই বাড়িতে মাঝেমধ্যে ছোটোখাটো কিছু কাজ করতো। সেই সুবাদে ওই নারীকে নানি বলে সম্বোধন করতো। ঘটনার দুয়েকদিন আগেও নিহতের ছেলে তন্ময় তাদের বাড়িতে কাজের জন্য মোবারককে তার মা ডেকেছে বলে জানায়। পরে এ সুযোগে মোবারক ঘটনার দিন তার অন্য দুই সহযোগী নিয়ে ওই বাড়িতে ডাকাতি করে। সেখানে তাদের চিনে ফেলায় দুই সহযোগীসহ মোবারক পারুল আক্তারকে গলা চেপে ধরে। তাদের হাত থেকে বাঁচতে ধস্তাধস্তি করেন পারুল আক্তার। এ সময় মোবারকের হাতে কামড় দেন তিনি। যে চিহ্ন পরবর্তীতে গ্রেফতার হওয়া আসামি মোবারকের হাতে দেখতে পায় পুলিশ। একই সময় নিহতের মরদেহের পাশ থেকে উদ্ধার করা দুটি শার্টের বোতামের সাথে মোবারকের শার্টের বোতামের মিল পাওয়া গেছে।
ওসি বলেন, স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তারা ওই নারীকে হত্যা করতে চাননি। ডাকাতির একপর্যায়ে ওই নারী মোবাইল ফোনে ভিডিও চিত্র ধারণ করার চেষ্টা করলে তারা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় প্রথমে আসামি মোবারককে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে পরে অন্য দুইজন শুভ ও সাদ্দামকে তাদের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।




