প্রণয় ভার্মার সম্ভাব্য ব্রাসেলস বদলির আলোচনা চলমান থাকায় ঢাকায় ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার কে হচ্ছেন—এ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার ৩১ মার্চ তথ্যটি জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস নাও।
কূটনৈতিক মহলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো দেশে রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার সাধারণত পেশাদার কূটনীতিকই হয়ে থাকেন। তবে ভারতের ক্ষেত্রে অতীতে একাধিকবার জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ ও প্রশাসকদেরও গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ঢাকায় পরবর্তী ভারতীয় হাইকমিশনার একজন পেশাদার কূটনীতিক হবেন, নাকি রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব—তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সূত্র অনুযায়ী, ভারতের প্রাক্তন ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং সম্প্রতি বিহারের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আরিফ মোহাম্মদ খানকে নিয়েও আলোচনার কথা শোনা যাচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও এর সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত, বাংলা ভাষায় দক্ষ কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে। ফলে রাজনৈতিকভাবে নিয়োজিত একজন দূত আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না কূটনৈতিক মহল।
ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক বিষয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে, বিশেষ করে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান নিয়ে তৈরি পরিস্থিতির পর। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে, তবে পূর্ণ স্বাভাবিকতায় ফেরার পথ এখনো দীর্ঘ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অতীতে ভারত গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে শুধু পেশাদার কূটনীতিক নয়, বরং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিকেও জ্যেষ্ঠ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতো। ১৯৮৬ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাঁচজন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ছিলেন পিকে কাউল (আমলা), ড. করণ সিং (জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন শাসক), ড. আবিদ হুসেন (অর্থনীতিবিদ), সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় (রাজনীতিবিদ) এবং নরেশ চন্দ্র (আমলা)। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে বারো বছরের দশ বছরই লন্ডনের হাই কমিশনের প্রধান ছিলেন পি সি আলেকজান্ডার (আমলা), কুলদীপ নায়ার (সাংবাদিক) এবং এল এম সিংভি (আইনজীবী)। এই সময়কালে একমাত্র পেশাদার কূটনীতিক ছিলেন এম কে রাসগোত্রা।
ফলে ঢাকায় পরবর্তী ভারতীয় হাইকমিশনার কে হবেন-একজন ক্যারিয়ার কূটনীতিক, নাকি রাজনৈতিকভাবে মনোনীত ব্যক্তি-তা এখনো উন্মুক্ত প্রশ্ন।







