
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্পর্কে যথেষ্ট বোঝেন না বলে মন্তব্য করেছেন এআইয়ের ‘গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত কম্পিউটার বিজ্ঞানী জিওফ্রি হিন্টন। এআই বিষয়ে ট্রাম্পকে ভুল পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে হিন্টন বলেন, ‘ট্রাম্প এআই সম্পর্কে প্রকৃতপক্ষে বোঝেন না।’ তার মতে, এআই নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সঠিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে না।
ডিপ লার্নিং ও নিউরাল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য জিওফ্রি হিন্টনকে এআইয়ের ‘গডফাদার’ বলা হয়। ২০২৩ সালের মে মাসে গুগল থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ তৈরি করতেই তিনি পদত্যাগ করেছিলেন বলে জানান।
দীর্ঘদিন ধরে এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছেন হিন্টন। তার আশঙ্কা, এআইয়ের উন্নয়ন একপর্যায়ে মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এ আশঙ্কাকে নিছক ভবিষ্যৎ আতঙ্ক হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয় বলেও মনে করেন তিনি।
অন্যদিকে এআই নিয়ে উদ্বেগকে ‘ভাঁওতাবাজি’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের এআই উন্নয়নের গতি কমানোরও বিরোধিতা করছেন তিনি। তার যুক্তি, এআইয়ের প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়লে চীনের কাছে হেরে যেতে পারে।
সম্প্রতি এআই খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন ট্রাম্প। এতে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান, অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই, মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ, এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং ও ইলন মাস্কসহ প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা অংশ নেন।
ওই আয়োজনে এআই কোম্পানিগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিজেরাই করতে পারবে বলে মত দেন ট্রাম্প। তবে হিন্টনের মতে, এআই খাতে বিপুল আর্থিক স্বার্থ জড়িত থাকায় কোম্পানিগুলোর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না।
সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির প্রতিযোগিতা নিয়েও সতর্ক করেছেন হিন্টন। তার মতে, এই প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার ধারণাটি বৈশ্বিক পারমাণবিক যুদ্ধে জয়ের মতো। শেষ পর্যন্ত সেখানে প্রকৃত কোনো বিজয়ী থাকবে না।
এআই উন্নয়নের গতি কমানোর পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে হিন্টন অন্যতম। নিরাপত্তার কারণে ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান ও অ্যানথ্রপিকের দারিও আমোদেইসহ এআই খাতের কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তিও উন্নয়নের গতি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে মেটার মার্ক জাকারবার্গ ও এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং এআই উন্নয়ন অব্যাহত রাখার পক্ষে।
হিন্টনের আশঙ্কা, আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে মানবজাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ১০ থেকে ২০ শতাংশ। তবে এ পূর্বাভাসের সঙ্গে একমত নন অনেক এআই গবেষক। তাদের মধ্যে রয়েছেন মেটার প্রধান এআই বিজ্ঞানী ইয়ান লেকুন, যিনি এ ধরনের অস্তিত্বগত ধ্বংসের আশঙ্কা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এআই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে গবেষক ও কর্মীদের পদত্যাগের ঘটনাও ঘটছে। সম্প্রতি ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তা গবেষক ডেভিড রবিনসন প্রতিষ্ঠানটি ছাড়ার ঘোষণা দেন। তার দাবি, কোম্পানিটির সংস্কৃতি ভেঙে পড়েছে।
২০২৪ সালেও নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা একাধিক গবেষক ওপেনএআই ছাড়েন। তাদের মধ্যে ছিলেন সুপারঅ্যালাইনমেন্ট দলের সহ-নেতা জ্যান লেইকে, ওপেনএআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধান বিজ্ঞানী ইলিয়া সুতস্কেভার এবং গবেষক ড্যানিয়েল কোকোটাজলো।
সম্প্রতি গুগল ডিপমাইন্ডের এজিআই নিরাপত্তা দলের সদস্য জশ এঙ্গেলসও পদত্যাগ করেন। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এআই সিস্টেমের কারণে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের এআই নীতিতে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন। রোববার ট্রাম্প তাকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ‘এআই জার’ হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দেন।
ক্লেটনের নেতৃত্বে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ নামে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এআই খাতে নেতৃত্ব ধরে রাখা এবং নাগরিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারি উদ্যোগগুলো সমন্বয় করবে এই টাস্কফোর্স।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…




