প্রযুক্তি যে ভূরাজনীতির নতুন ভাষা, তার আরেকটি উদাহরণ চীনে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান জোহোর প্রবেশ। যে বাজারে গুগল, মাইক্রোসফট ও মেটার মতো জায়ান্টরা নানা বিধিনিষেধে আটকে, সেখানে ভারতীয় কোম্পানি জোহো প্রবেশের অনুমতি পেয়েছে স্থানীয়করণ নীতি ও ডেটা সার্বভৌমত্বের প্রতি অঙ্গীকার দেখিয়ে।
চীনের বাজারে ঢোকার টিকিটই হলো তাদের শর্তে তথ্যের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া। এই প্রযুক্তি-কূটনীতি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়, একুশ শতকের রাষ্ট্রগুলো ডেটা ও প্ল্যাটফর্মের নিয়ন্ত্রণকে জাতীয় স্বার্থের দর-কষাকষির টেবিলে তুলে এনেছে।
প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ সেই টেবিলে কী নিয়ে বসবে? নিজস্ব শর্ত, নাকি অন্যের লাইসেন্স চুক্তির ছাপানো ফরম?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আগে নিজেদের বাজারের চেহারাটা স্বীকার করতে হবে। বাংলাদেশের সফটওয়্যার বাজারের বড় অংশ বহু বছর ধরে চ্যানেল ও রিসেলারকেন্দ্রিক কমিশন-সংস্কৃতিতে আটকে আছে।
এই কাঠামোতে বিদেশি লাইসেন্স ঠেলে বিক্রি হয়; কমিশনচালিত বিক্রয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ফিচার গছানো হয়; আর মালিকানার প্রকৃত মোট ব্যয়, অর্থাৎ লাইসেন্স, নবায়ন, ভেন্ডার লক-ইন ও মাইগ্রেশনের খরচ থেকে যায় চোখের আড়ালে।
ফলাফল সুদূরপ্রসারী। দেশীয় মেধা ও মূলধন নিজস্ব মেধাস্বত্ব তৈরির বদলে বিতরণের রেন্ট তুলতে তুলতে ক্ষয়ে যায়। স্থানীয় গবেষণা-উন্নয়ন, প্রোডাক্টাইজেশন ও জ্ঞানভিত্তিক কর্মসংস্থানের পরিসর ক্রমে ছোট হয়ে আসে। রাষ্ট্র প্রতিবছর কেবল লাইসেন্স ও রক্ষণাবেক্ষণেই বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে, অথচ সোর্স কোড ও সিস্টেম কনফিগারেশনের চাবি থেকে যায় বিদেশি কোম্পানির হাতে।





