ডাকাতি ঠেকাতে না পারলে অন্তত সহযোগিতা করবেন না: নজরুল ইসলাম

ডাকাতি ঠেকাতে না পারলে অন্তত সহযোগিতা করবেন না: নজরুল ইসলাম

আওয়ামী লীগ আবার সরকার গঠন করতে পারলে গণতন্ত্রকে আরও সুদৃঢ় করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

তিনি বলেছেন, আমরা নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে রাষ্ট্র পরিচালনার সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা আরও সুদৃঢ় করব।

বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ইশতেহার ঘোষণা করেন।

এ সময় প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সন্ত্রাস দমন, সব নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাষ্ট্র পরিচালনায় সংবিধানের প্রাধান্য, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন সুনিশ্চিত করা হবে।

আওয়ামী লীগের এবারের ইশতেহারে স্লোগান- ‘স্মার্ট বাংলাদেশ: উন্নয়ন দৃশ্যমান, বাড়বে এবার কর্মসংস্থান’। ইশতেহারে ২০৪১ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা, দ্রব্যমূল্য সবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসা, কর্মোপযোগী শিক্ষা ও যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মত ১১টি বিষয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে দলটি।

নবম সংসদ নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করার পর টানা ১৫ বছর ধরে দেশ শাসন করে চলেছে আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে ‘দিনবদলের সনদ’ স্লোগানে তাদের ইশতেহারে ছিল ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারে ইশতেহার ঘোষণা করে দলটি। শিরোনাম ছিল ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’। এর পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইশতেহারের শিরোনাম ছিল ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’। লক্ষ্য ছিল ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়া।

ইশতেহারে এবার যেসব বিষয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে আওয়ামী লীগ-

>> দ্রব্যমূল্য সকলের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

>> কর্মোপযোগী শিক্ষা ও যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।

>> আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

>> লাভজনক কৃষির লক্ষ্যে সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা, যান্ত্রিকীকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগ বৃদ্ধি।

>> দৃশ্যমান অবকাঠামোর সুবিধা নিয়ে এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে শিল্পের প্রসার ঘটানো।

>> ব্যাংকসহ আর্থিক খাতে দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

>> নিম্ন আয়ের মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা সুলভ করা।

>> সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় সকলকে যুক্ত করা।

>> আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

>> সাম্প্রদায়িকতা এবং সকল ধরনের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ রোধ করা।

>> সর্বস্তরে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুরক্ষা ও চর্চার প্রসার ঘটানো।

সকাল সাড়ে ১০টায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক ড. আব্দুর রাজ্জাক। এরপর বক্তব্য রাখছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তারপর দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনা ইশতেহার পাঠ করবেন।

Scroll to Top