সৌদি আরব, ২ ফেব্রুয়ারি – সৌদি আরবে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী নিজের ক্লাব আল নাসরের হয়ে পরবর্তী ম্যাচের আগে কার্যত ধর্মঘটে গেছেন বিশ্বফুটবলের এই মহাতারকা।
সৌদি প্রো লিগের স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী আল রিয়াদের বিপক্ষে সোমবারের ম্যাচে অধিনায়ক রোনালদোকে মাঠে পাওয়া নিয়ে তাই গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। ৪০ বছর বয়সী এই তারকা বর্তমানে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া খেলোয়াড় হিসেবে আল নাসরে খেলছেন। তবে বিশাল অঙ্কের চুক্তি থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড বা পিআইএফ এর ভূমিকা নিয়ে তিনি চরম অসন্তুষ্ট বলে জানা গেছে।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম আ বোলা এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সূত্রমতে রোনালদোর ক্ষোভের মূল কারণ হলো প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবগুলোর তুলনায় আল নাসরের প্রতি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বৈষম্য। বিশেষ করে ট্রান্সফার মার্কেটে অন্য ক্লাবগুলোর তুলনায় আল নাসরকে কম গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। পিআইএফ বর্তমানে সৌদি লিগের চারটি প্রধান ক্লাব আল আহলি, আল ইত্তিহাদ, আল হিলাল ও আল নাসরের ৭৫ শতাংশ মালিকানা নিয়ন্ত্রণ করে।
রোনালদোর অভিযোগ হলো চারটি ক্লাবের মধ্যে আল নাসরকে সমানভাবে ট্রান্সফার সুবিধা দেওয়া হয়নি। আল হিলাল যেখানে ধারাবাহিকভাবে বড় তারকাদের দলে ভেড়াচ্ছে সেখানে আল নাসরের স্কোয়াড শক্তিশালী করার উদ্যোগ অপর্যাপ্ত বলে মনে করেন তিনি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডোতে আল নাসর কেবল ইরাকি মিডফিল্ডার হায়দার আবদুলকারিমকে সই করিয়েছে। অন্যদিকে আল হিলাল স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পাবলো মারি ও ফরোয়ার্ড কাদের মেইতেকে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে দলে নিয়েছে।
এই বৈষম্য নিয়ে ক্লাবের কোচ হোর্হে জেসুসও প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে আল হিলালের মতো আল নাসরের রাজনৈতিক প্রভাব নেই। এদিকে আল নাসরের হয়ে এখনো কোনো ঘরোয়া শিরোপা জিততে না পারা রোনালদোর হতাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও গত ডিসেম্বরে দুবাইয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্য যেখানেই হোক খেলা চালিয়ে যাওয়ার এবং ১০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। বর্তমানে তাঁর ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা ৯৬১ যা তিনি গত শুক্রবার আল খালুদের বিপক্ষে ম্যাচে অর্জন করেছেন।
এস এ এস/ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬





