জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের শরীরে এখনো যেসব বুলেট বা পিলেট রয়ে গেছে, সেগুলো সরানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও চিকিৎসাবিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান।
রাজধানীর পান্থপথে জুলাই আহতদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
সভায় অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘আহতদের শরীরে যেসব পিলেট বা বুলেট রয়ে গেছে, সেগুলো অপসারণ করা সম্ভব নয়। অনেকের শরীরে ১০০ থেকে ২০০ পর্যন্ত পিলেট রয়েছে। এগুলো বের করতে গেলে শরীরের টিস্যুতে যতোটা ক্ষতি হবে, তার চেয়েও বেশি ক্ষতি হবে অপারেশন করার সময়। ফলে অধিকাংশ চিকিৎসকই মনে করেন, সেগুলো শরীরে রেখে দেওয়াই নিরাপদ।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সর্বোচ্চটুকু দিয়েই আহতদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা সবদিক থেকে বিবেচনা করে চিকিৎসা দিয়েছি। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো তাদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।’
চিকিৎসদের চেষ্টার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যার শরীরে এগুলো পিলেট রয়ে গেছে তার শারীরিক মানসিক কষ্ট আমরা বুঝতে পারছি। কিন্তু এটা সমাধান অযোগ্য। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটার এই মুহূর্তে কোনো সমাধান নাই।’
সভায় সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, ‘জুলাই আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ভার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর দেওয়া ভুল ছিল। এটা শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একার কাজ ছিল না ’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে যাদের চিকিৎসা দরকার ছিল। স্বাভাবিকভাবেই সে সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর পুরো বিষয়টি এসে পড়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পুরো বিষয়টি নিয়ে হিমশিম খেয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে এখানে তিনটা মিনিস্ট্রি সমান্তরাল কাজ করার দরকার ছিল। স্বাস্থ্য ছাড়াও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। কারণ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটা এমআইএস ছিল দেশজুড়ে। এসব মন্ত্রণালয় মিলে কাজ করলে সমন্বয় ভালো হত।’