জাতীয় উন্নয়নের অংশ হিসেবে চোখের স্বাস্থ্যকে দেখতে হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী | চ্যানেল আই অনলাইন

জাতীয় উন্নয়নের অংশ হিসেবে চোখের স্বাস্থ্যকে দেখতে হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী | চ্যানেল আই অনলাইন

এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ

চোখের স্বাস্থ্যকে শুধু চিকিৎসাসেবার বিষয় হিসেবে নয়, বরং শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা এবং সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞ ড. এম এ মুহিত।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানের হোটেল রেনেসাঁয় দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘ন্যাশনাল ডায়ালগ অন আই হেলথ বিয়ন্ড হেলথ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক—তিনি যে অঞ্চলেই বসবাস করুন না কেন—গুণগত মানসম্পন্ন চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রাখেন। এ সেবা সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের চক্ষু চিকিৎসা খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি চিকিৎসক, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের অবদানের প্রশংসা করেন।

ড. এম এ মুহিত বলেন, দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, ডায়াবেটিসের প্রকোপ এবং গ্রাম ও দুর্গম অঞ্চলে চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে নারী, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য সময়মতো চক্ষু চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত ও গবেষণাভিত্তিক সিদ্ধান্তের বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলায় চক্ষু স্বাস্থ্যের সার্বিক অবস্থা মূল্যায়নে একটি বড় পরিসরের র‌্যাপিড অ্যাসেসমেন্ট সার্ভে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই জরিপ আগামী পাঁচ বছরের জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা দেশের জন্য বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, “আমাদের সরকারের অঙ্গীকার—আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শুধু বরিশাল বিভাগ নয়, সারা বাংলাদেশ থেকে ছানিজনিত অন্ধত্ব দূর করা।”

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ড. মুহিত বলেন, গ্লোবাল সামিট কো-হোস্ট করার সুযোগের মাধ্যমে দেশ বৈশ্বিক পর্যায়ে চক্ষু স্বাস্থ্যসেবায় নেতৃত্ব দিতে চায়।

অনুষ্ঠানে বরিশাল বিভাগে ছানিজনিত অন্ধত্ব নির্মূলে ‘বরিশাল ভিশন ২০৩০: ছানি নির্মূল কর্মসূচি’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রস পাইপার, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. এ.এস.এম.এম. কাদির এবং অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনীর আহমেদ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ইউএনডিপি বাংলাদেশ, অরবিস ইন্টারন্যাশনাল, সিএসএফ গ্লোবাল, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, পেশাজীবী সংগঠন, একাডেমিয়া, সুশীল সমাজ এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Scroll to Top