ছড়িয়ে পড়েছে ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর খবর!

ঢাকাই চলচ্চিত্রের বরেণ্য ও নন্দিত অভিনেতা, প্রযোজক এবং পরিচালক ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আচমকা ছড়িয়ে পড়ায় দেশজুড়ে প্রচণ্ড বিভ্রান্তি ও চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। কোনো ধরনের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা তথ্যসূত্র ছাড়াই বহু মানুষ সামাজিক নেটওয়ার্কে লিখতে শুরু করেন যে ঢাকাই সিনেমার এই প্রিয় মুখ আর আমাদের মাঝে বেঁচে নেই। তবে ভিত্তিহীন এই সংবাদের সততা নিয়ে যখন সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়, ঠিক তখনই বাস্তব পরিস্থিতি পরিষ্কার করেছেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ। তিনি স্পষ্টভাবে সবাইকে অবহিত করেছেন যে ইলিয়াস কাঞ্চন সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং ভালো আছেন। বিভ্রান্তিকর ভুল তথ্যের ওপর নির্ভর করে এক শ্রেণীর মানুষ কেবল জল্পনা-কল্পনা ও গুজব ছড়াচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে তার মৃত্যুর খবরটি একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন গুঞ্জন ছাড়া আর কিছুই নয়। এমন স্পর্শকাতর ও মনগড়া সংবাদে সাধারণ ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের কান না দেওয়ার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তি থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চিত্রজগৎ ও সমাজসেবায় অনন্য অবদান রাখা এই গুণী অভিনেতা দীর্ঘদিন ধরে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনে কঠিন চিকিৎস প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। টানা ১৫ মাসেরও বেশি সময় লন্ডনের হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর গত ৩ আগস্ট তিনি নিজের জন্মভূমিতে ফিরে আসেন। দীর্ঘদিন পর প্রিয় মাতৃভূমিতে ফেরার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পরিবার ও আপন মানুষদের পাশাপাশি ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কিছুটা সুসময় কাটানো। দেশে ফেরার পর ঢাকাই চলচ্চিত্র অঙ্গনের প্রবীণ ও সহকর্মী তারকাদের মধ্যে আলমগীর, মিশা সওদাগর, শবনম, আনোয়ারা, সুচন্দা, রোজিনা এবং চম্পাসহ বহু প্রিয় ব্যক্তিত্ব তার সঙ্গে সশরীরে দেখা করেন এবং কুশল বিনিময় করেন। চিকিৎসাধীন থাকার পর দেশে ফিরে তিনি গত ৭ আগস্ট রাজধানী ঢাকার শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ সংগঠনের ১১তম মহাসমাবেশেও স্বশরীরে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে স্বজনদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সময় কাটানোর জন্য তার নিজের জেলা কিশোরগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনাও নির্ধারিত ছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অসত্য খবরে মোটেও কান না দিয়ে দেশবাসীর কাছে বাবার আরোগ্য লাভে আন্তরিক আশীর্বাদ ও শুভকামনা চেয়েছেন তার সন্তান মিরাজুল মইন জয়। পিতার বর্তমান শারীরিক অবস্থা দেখে নিজের মনের গভীর তৃপ্তির কথা ব্যক্ত করে জয় জানান যে বাবাকে সবসময় হাসিখুশি দেখতে পাওয়াটাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ ও অনুপ্রেরণা। দেশে ফেরার পর নিজের বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন নিজেও বেশ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলেন। গত ৯ আগস্ট রাতে তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে নিজ দেশে ফিরে তিনি মানসিকভাবে অনেক বেশি স্বস্তি ও শান্তি অনুভব করছেন। সবার ভালোবাসা ও প্রিয় মুখগুলোর সঙ্গে দেখা হওয়ার মুহূর্তগুলো তাকে দারুণ জীবনীশক্তি যোগাচ্ছে। একই সঙ্গে সম্পূর্ণ চিকিৎসা শেষ করে চিরতরে সুস্থ দেহে দ্রুত দেশে ফিরে আসতে পেরে তিনি দেশবাসীর কাছে অন্তর থেকে প্রার্থনা কামনা করেছেন। চলচ্চিত্র অঙ্গনের শিল্পী, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা সবাই সর্বসাধারণকে কেবল সঠিক ও দায়িত্বশীল তথ্যের ওপর ভরসা রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।

Scroll to Top