এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
চীনের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক আগ্রাসন মোকাবিলায় জাপান ও ফিলিপাইন দুটি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। এর মধ্যে একটি চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনী যৌথ মহড়া চলাকালে একে অপরকে রসদ ও সেবা দিতে পারবে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ম্যানিলায় সই হওয়া চুক্তিগুলোর মাধ্যমে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপান ও ফিলিপাইনের সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হলো। যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে এরই মধ্যে একটি নিরাপত্তা অংশীদারত্বে যুক্ত হয়েছে দেশ দুটি। জাপান ফিলিপাইনকে টহল নৌকা ও রেডিও সরঞ্জামও সরবরাহ করেছে।
দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে ফিলিপাইন ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছে। বেইজিং প্রায় পুরো এলাকাটির মালিকানা দাবি করলেও আন্তর্জাতিক আদালত সেই দাবির কোনো আইনগত ভিত্তি নেই বলে রায় দিয়েছে।
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি ও ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা লাজারো ‘অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং অ্যাগ্রিমেন্ট (এসিএসএ)’-এ সই করেন। এ চুক্তির আওতায় যৌথ প্রশিক্ষণের সময় করমুক্তভাবে গোলাবারুদ, জ্বালানি, খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় রসদ বিনিময় করা যাবে।
এছাড়া জাপান ফিলিপাইনকে ৬০ লাখ ডলারের ‘অফিশিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই অর্থ দিয়ে জাপানের দেওয়া রিজিড-হাল ইনফ্ল্যাটেবল বোট রাখার অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে, যা ফিলিপাইনের নৌ সক্ষমতা বাড়াবে।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে লাজারো বলেন, এই চুক্তি আমাদের পারস্পরিক সামরিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতি জোরদার করবে এবং পূর্বে সই হওয়া ভিজিটিং ফোর্সেস চুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ চীন সাগরে নৌযান চলাচল ও আকাশপথের স্বাধীনতাসহ আইনের শাসন বজায় রাখার গুরুত্ব আমরা দু’দেশই স্বীকার করেছি।
মোতেগি বলেন, পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরে বলপ্রয়োগ বা চাপের মাধ্যমে স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের একতরফা প্রচেষ্টার বিরোধিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন যদিও সরাসরি চীনের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি জাপান ও ফিলিপাইন ‘রিসিপ্রোকাল অ্যাক্সেস অ্যাগ্রিমেন্ট’ সই করে, যা দুই দেশের বাহিনীকে একে অপরের ভূখণ্ডে মোতায়েন হয়ে বড় পরিসরের যৌথ মহড়া ও লাইভ-ফায়ার অনুশীলনের সুযোগ দেয়। চুক্তিটি গত সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়।
এদিকে, ঐতিহাসিক ও ভূখণ্ডগত বিরোধ নিয়ে জাপান ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনের। গত বছর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তাইওয়ানে চীনের হামলার ক্ষেত্রে সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়ার পর সম্পর্ক আরও খারাপ হয়। এতে ক্ষুব্ধ বেইজিং বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয়।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নববর্ষের ভাষণে তাইওয়ানকে চীনের সঙ্গে পুনঃএকত্রীকরণ অবশ্যম্ভাবী বলে উল্লেখ করেন। এই বক্তব্য আসে তাইওয়ান অবরোধের অনুকরণে চীনের সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার কয়েক দিন পর।





