ঢাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারি – বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর চাহিদা মোতাবেক গ্যাস সরবরাহ দেয়া গেলে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি প্রায় ৭০ শতাংশই কমে আসত বলে মনে করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আমাদের গ্যাসের চাহিদা দুই হাজার এমএমসিএফ। কিন্তু আমরা দিতে পারি ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ এমএমসিএফ (আমদানিসহ)। বিদ্যুতে যদি দুই হাজার এমএমসিএফ গ্যাস দেয়া যেত, তাহলে বিদ্যুতে ভর্তুকি প্রায় ৭০ শতাংশ কমে আসত।’
বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পেট্রোবাংলায় আয়োজিত গ্যাস চাহিদা ও সরবরাহ বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা যা পাচ্ছি তার ১৭ শতাংশ গ্যাস যাচ্ছে ক্যাপটিভে (শিল্পের নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র) এবং ৪৩ শতাংশ গ্যাস যাচ্ছে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোয়। দুটো মিলিয়ে ৬০ শতাংশ গ্যাস চলে যাচ্ছে বিদ্যুতে।’
পুরনো বিদ্যুৎকেন্দ্রের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘আমাদের ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর দক্ষতা ২০ শতাংশ। এখন মেঘনাঘোটের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর দক্ষতা ৬০ শতাংশ। এছাড়া গ্যাসভিত্তিক আগের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর দক্ষতা ৩৫ থেকে ৪২ শতাংশ। আমরা অদক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দিচ্ছি। দক্ষ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোয় যদি পুরোপুরি গ্যাস চাহিদা দেয়া যায়, এমনকি আমদানি করেও গ্যাস দেয়া গেলে তাতেও চালিয়ে নেয়া সম্ভব।’
নসরুল হামিদ আরো বলেন, ‘আমরা ২০ শতাংশ গ্যাস আমদানি করি। গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি আমরা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। বাকিটুকু আমাদের নিজস্ব অনুসন্ধানের মাধ্যমে সরবরাহ করছি। কিন্তু এর পরিমাণ যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি ঘাটতিও কমিয়ে আনতে হবে।’
গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহিতায় আনতে হবে উল্লেখ করে নসরুল হামিদ বলেন, ‘শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিয়ে বসব। গ্রাহককে গ্যাস সরবরাহ করতে না পারলে, বিতরণ কোম্পানিগুলোকে জরিমানা দিতে হবে।’
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার বলেন, সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চালিকাশক্তি হচ্ছে গ্যাস। আমাদের চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতির কারণে সমালোচনা হচ্ছে। সে কারণে আজ সবাইকে ডাকা হয়েছে আলোচনা করার জন্য যে কী করে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো যায়।
জনেন্দ্র নাথ সরকার বলেন, চলমান ৪৮টি কূপ খননের পাশাপাশি আরো ১০০টি কূপ খনন করা হবে ২০২৮ সালের মধ্যে। এছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র আহ্বান করতে প্রস্তুত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব নুরুল আলম। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম ও পেট্রোবাংলার জেনারেল ম্যানেজার (রিজার্ভ এবং ডাটা ম্যানেজমেন্ট) মেহেরুল হাসান।
সূত্র: বণিক বার্তা
আইএ/ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪




