খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে সরকার: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে সরকার: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

খুলনা: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে একটি ক্রীড়াবান্ধব ও আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করছে। দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পাশাপাশি খেলাধুলাকে একটি সম্মানজনক ও টেকসই পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে যুগোপযোগী নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে খুলনার রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের পালেরহাট স্বনির্ভর ইউনাইটেড মাঠে অনুষ্ঠিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃ ইউনিয়ন ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খেলোয়াড়দের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল আর্থিক নিরাপত্তা। সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এরইমধ্যে দেশের ৩০০জন খেলোয়াড়কে ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও ২০০ জন জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়কে ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মাধ্যমে খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্বের একটি সুদৃঢ় ভিত্তি তৈরি হবে এবং তারা আরও উৎসাহ ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দেশের জন্য অবদান রাখতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, ক্রীড়াকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সারা দেশে নতুনকুঁড়ির মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। তাই দেশের প্রতিটি এলাকায় ক্রীড়াচর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের সর্বস্তরের যুবসমাজকে আবারও ক্রীড়াঙ্গনে ফিরিয়ে আনতে এবং প্রান্তিক পর্যায়ের মাঠগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আধুনিকায়ন ও সংস্কার করা হবে। প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলা হবে, যাতে গ্রামের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রাও নিজেদের মেধা বিকাশের সমান সুযোগ পান।

সাবেক এই জাতীয় দলের কৃতি ফুটবলার আরও বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে ঢেলে সাজাতে বর্তমান সরকার ৮টি বিভাগকে ১০টি ক্রীড়া অঞ্চলে ভাগ করে প্রতিটি অঞ্চলে আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এসব স্পোর্টস ভিলেজে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইনডোর স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, শুটিং রেঞ্জ, আধুনিক জিমনেশিয়াম, অনুশীলন মাঠ, আবাসন সুবিধা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এর ফলে দেশের খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন এবং বিদেশে প্রশিক্ষণের ওপর নির্ভরশীলতা অনেকাংশে কমে আসবে। সরকারের লক্ষ্য শুধু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন নয়, বরং দেশের প্রতিটি শিশু ও তরুণকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে একটি সুস্থ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তোলা। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে এবং এর সুফল আগামী দিনগুলোতে দেশবাসী দেখতে পাবে।

ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেন, ক্রীড়া ক্ষেত্রে রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলার অসামান্য অবদান রয়েছে। স্কাউটস, অ্যাথলেটিকস, বক্সিং, ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া অঙ্গনে এ অঞ্চলের খেলোয়াড়রা দীর্ঘদিন ধরে সুনাম অর্জন করে আসছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এ অঞ্চলের অনেক ক্রীড়াবিদ তাদের মেধা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন।

তিনি বলেন, এই ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করতে এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে তাঁর নির্বাচনী এলাকার রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়ায় পৃথক পৃথক আধুনিক ও যুগোপযোগী স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। এসব স্টেডিয়াম নির্মিত হলে তৃণমূল পর্যায়ের খেলোয়াড়রা নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পাবেন এবং জাতীয় পর্যায়ের আরও দক্ষ খেলোয়াড় গড়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আজিজুল বারী হেলাল আরও বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি যুবসমাজকে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে। তাই তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। ক্রীড়াচর্চার প্রসারের মাধ্যমে রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়াকে একটি মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও সুস্থ সামাজিক পরিবেশের জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং এ লক্ষ্যে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন খুলনা জেলা বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, জেলা পরিষদ প্রশাসক, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পি, জেলা বিএনপির সাবেক সচিব আবু হোসেন বাবু, বিসিবির সাবেক পরিচালক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খান জুলফিকার আলি জুলু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃ ইউনিয়ন ফুটবল প্রতিযোগিতা বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোল্যা খায়রুল ইসলাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জিএম কামরুজ্জামান টুকু, এনামুল হক সজল, জেলা বিএনপির সদস্য শেখ আব্দুর রশিদ, দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সাইফুর রহমান মিন্টু, রূপসা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান,তেরখাদা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক চৌধুরী কাউসার আলী,রূপসা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক,খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, জেলা বিএনপির সদস্য মোল্যা এনামুল কবীর, আরিফুর রহমান আরিফ, আনিসুজ্জামান বিশ্বাস, এম এ সালাম,আছাফুর রহমান,জেলা শ্রমিকদলের আহবায়ক উজ্জল কুমার সাহা,খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ইশতিয়াক আহম্মেদ ইশতি, জেলা তাঁতিদলের সদস্য সচিব মাহমুদুল আলম লোটাস, রূপসা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক বিকাশ মিত্র।

উদ্বোধনী খেলায় অংশ নিয়ে স্বাগতিক শ্রীফলতলা ইউনিয়ন ফুটবল দল এবং তেরোখাদা মধুপুর ইউনিয়ন ফুটবল দল। তুমূল প্রতিযোগিতাপূর্ন এই খেলায় স্বাগতিক দল মধূপুর ইউনিয়ন ফুটবল ১-০ শূন্য গোলে হারিয়ে বিজয় অর্জন করেন। খেলা পরিচালনা করেন ফিফা রেফারি জুনায়েদ শরীফ, ন্যাশনাল রেফারি তানভির হোসেন,আবু বক্কর, কামাল আহম্মেদ।

Scroll to Top