‘আমি আর কখনো আমার আবিরকে পাবো না। সে আমাকে রেখে চলে গেছে। কোথায় গেলি আব্বা আমাকে নিয়ে যা।’ বলে বিলাপ করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত আবির হোসেনের মা আঞ্জুয়ারা বেগম।
নিহত আবির হোসেন (৩৮) সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের ঝাঁপাঘাট শেখপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিমের ছোট ছেলে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। আমেরিকাতে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি আইফোন সেলস সেন্টার ও ‘ক্রিস ফুড মার্ট’ নামের একটি কফি শপে পার্টটাইম চাকরি করতেন।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ সময় শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার দিকে আরির হোসেনের কফি শপে একদল সন্ত্রাসী প্রবেশ করে। সন্ত্রাসীদের বাধা দিয়ে মালিকের কাছে ফোন করার চেষ্টা করছিলেন আবির। এ সময় ডাকাতদের একজন তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ আবির হোসেন সেখানেই মারা যান। আবিরের মরদেহ দেশে নিয়ে আসার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।
আবিরের বড় বোন আয়েশা খাতুন বলেন, আবির ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও আশা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে গ্র্যাজুয়েট গবেষণা সহকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের লামার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। সেখানে স্ত্রী ও তিন বছরের কন্যাসন্তান নিয়ে বাস করতেন। সরকারের কাছে তিনি আবিরের মা, স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুসন্তানের দেখাশোনা করার জন্য ক্ষতিপূরণ এবং ভাই হত্যার অতি দ্রুত বিচার দাবি জানান।
আবিরের মেজো ভাই জাকির হোসেন বলেন, অন্য দেশের আইন ও বিচার বিভাগের প্রতি নাক গলায় আমেরিকা। সেই আমেরিকার মতো একটা দেশে পড়তে যাওয়া আমার ভাইকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে। সেখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হত্যায় জড়িত থাকা সন্দেহে দুজনকে আটক করে একজনকে ছেড়ে দিয়েছে বলে জানান তিনি।
কোনো হয়রানি ছাড়াই আবিরের মরদেহ অতি দ্রুত ফেরত এবং আবির হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের শাস্তির দাবি জানান তিনি ও তার পরিবার। তার মৃত্যুর খবর শুনে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।



