কোচ-অধিনায়ক ছাড়াই সংবাদ সম্মেলন, বাংলাদেশ শিবিরে অস্বস্তি

উজবেকিস্তান যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলের সংবাদ সম্মেলনে তৈরি হলো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। দলের প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স, অধিনায়ক কিংবা কোনো খেলোয়াড়—কেউই উপস্থিত ছিলেন না। বাফুফে কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের হয়ে কথা বলেন ম্যানেজার সামিদ কাসেম ও বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী টিটু।

ফলে মাঠের প্রস্তুতি ও আসন্ন বাছাইপর্বের পরিকল্পনার চেয়ে সংবাদ সম্মেলনে বেশি গুরুত্ব পায় কোচিং স্টাফের সাম্প্রতিক বিরোধ এবং ক্যাম্পের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।

মঙ্গলবার হওয়ার কথা থাকা সংবাদ সম্মেলনটি শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছিল। পরে দল উজবেকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে সেটি আয়োজন করা হয়। তবে কোচ ও খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিতে শুরু থেকেই প্রশ্নের মুখে পড়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন।

বিশেষ করে জেরার্ড জোন্সের না থাকাটা ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। গত সপ্তাহে দলের হোটেলে ব্রিটিশ এই কোচের সঙ্গে তার সহকারী আতিউর রহমান মিশুর শারীরিক সংঘর্ষের খবর প্রকাশ্যে আসে। ঘটনার পর জোন্স জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটি তদন্তও শুরু করেছে।

কোচ ও খেলোয়াড়দের সংবাদ সম্মেলনে না থাকার কারণ হিসেবে অবশ্য যাত্রাপথের জটিলতার কথা জানিয়েছেন ম্যানেজার সামিদ কাসেম।

‘উজবেকিস্তানে সরাসরি কোনো ফ্লাইট নেই। তাই আজ আমাদের দল কয়েকটি ভাগে ভ্রমণ করছে। কোচ ও খেলোয়াড়দের মনোযোগ যাতে ব্যাহত না হয়, সে কারণেই তাদের এখানে আনা হয়নি। এটা আমাদের স্বাভাবিক চর্চা নয়, এবং ম্যানেজার হিসেবে এ জন্য আমি দুঃখিত,’ বলেন কাসেম।

তবে সাম্প্রতিক বিরোধের প্রভাব দলের প্রস্তুতিতে পড়েছে কি না, এমন প্রশ্নও উঠেছে। কাসেমের দাবি, ‘ক্যাম্পের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। সবাই ভালো মেজাজে আছে।’

অন্যদিকে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই দলকে বিদেশ সফরে পাঠানো নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েছে বাফুফে। জোন্স ও মিশুর মধ্যকার ঘটনার পর কেন এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, জানতে চাইলে কাসেম বলেন, ‘সফরের আগে আমরা এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইনি, কারণ এতে দলের ওপর প্রভাব পড়তে পারত। এ ছাড়া তথ্য সংগ্রহ করতেও কিছুটা সময় লেগেছে।’

কোচিং স্টাফকে ঘিরে অস্বস্তি অবশ্য বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের জন্য একেবারে নতুন নয়। জেরার্ড জোন্স এর আগেও ক্যাম্পে বেতন না পাওয়া ও নিরাপত্তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তার নিয়োগের আগে ব্রিটিশ কোচ মার্ক কক্সকে ঘিরেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

সব মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মিশনের ঠিক আগে মাঠের বাইরের এই পরিস্থিতি বাংলাদেশ শিবিরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে কোচ ও অধিনায়ক না থাকায় দলের প্রস্তুতি, কৌশল এবং খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থার বিষয়ে সরাসরি জানার সুযোগও পাননি সাংবাদিকেরা।

Scroll to Top