কেপ ভার্দে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভুগিয়েছে আর্জেন্টিনাকে। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের আগে আর্জেন্টিনার ঘাম ছুটাল ছোট্ট এই দেশটি। ম্যাচ শেষে বিশ্ব জয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসিও স্বীকার করলেন, তার দল কেপ ভার্দের ওপর সেরকম চাপ তৈরি করতে পারেনি। ৩-২ গোলে জিতে শেষ ষোলোতে ওঠা ম্যাচের পর আত্মসমালোচকের ভূমিকায় মেসি।
মেসি বলেছেন, ‘এই দলটা দীর্ঘদিন ধরেই এটা প্রমাণ করে আসছে, এরা লড়ে এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে যাবে। আজ আমরা সেট পিসগুলো কাজে লাগাতে পেরেছি, যা আমরা ঠিকঠাক গোলে রূপান্তর করতে পারছিলাম না। এই ধরনের ম্যাচে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ভালো হেডার আছে, এমন সব খেলোয়াড় আছে যারা বাতাসে ভেসে আসা বলে বেশ পারদর্শী।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আজ আমরা সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে পেরেছি এবং এটা সামনেও গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। আমরা বেশ কিছুদিন ধরে আক্রমণ ও রক্ষণ—উভয় ক্ষেত্রেই এটা নিয়ে কাজ করছি। এই ধরনের প্রতিযোগিতায় এটি অত্যন্ত জরুরি।’
মেসি আরও জানান, ‘‘আমরা অগোছালো ছিলাম, ওরা সবসময় আমাদের চেয়ে একজন খেলোয়াড় বেশি পাচ্ছিল কারণ আমরা ওদের সাথে টেক্কা দিতে পারছিলাম না। ওদের পায়ে বল ছিল না, তাও ওরা আমাদের দৌড়ের ওপর রেখেছিল কারণ আমরা ঠিকমতো চাপ সৃষ্টি করতে পারছিলাম না।’
নিজেদের সমালোচনা করেছেন মেসি এবং কীভাবে ১২০ মিনিট ধরে কেপ ভার্দে তাদের জন্য পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছিল সেটা বিশ্লেষণ করলেন, ‘আমরা ওদের ওপর ঠিকমতো চাপ সৃষ্টি করতে পারছিলাম না। মাঝে মাঝে রক্ষণাত্মক জায়গা থেকে যখন আমরা সেন্ট্রাল ব্যাকের ওপর চড়াও হতে চাচ্ছিলাম, তখন দুই লাইনের মধ্যবর্তী দূরত্ব অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছিল; সেন্ট্রাল ব্যাকদের এগিয়ে এসে ডিফেন্ড করার জন্য দূরত্বটা বড্ড বেশি ছিল।’
কেপ ভার্দের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় ম্যাচটা যে সহজ হবে না জানতেন মেসি, ‘ম্যাচটা সহজ হবে না জানতাম। কারণ আছে, এই দল স্পেন ও উরুগুয়ের কাছে হারেনি। আমরা সবচেয়ে কঠিন কাজটা করে ফেলেছিলাম। অর্থাৎ প্রথম গোলটা করেছিলাম এবং আমরা ভেবেছিলাম যে, এর ফলে আমরা খেলার ছন্দে ফিরব। কিন্তু ঘটল ঠিক তার উল্টো। আমরা বলের দখল হারালাম, রক্ষণাত্মক হয়ে পড়লাম, কার্যকরভাবে চাপ সৃষ্টি করতে পারলাম না।’
এই ম্যাচ থেকে ইতিবাচক দিকও খুঁজে পেয়েছেন মেসি, ‘ওরা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলেছে। আমরা জানতাম ম্যাচটা কঠিন হতে যাচ্ছে। এটি একটি জীবন-মরণ প্রতিযোগিতা এবং এখানে কেউ আপনাকে কোনো কিছু সহজে ছেড়ে দেবে না। নামের ওপর ভিত্তি করে আমরা দলগুলোর মর্যাদাকে সম্মান করলেও, আমরা জানতাম কাজটা মোটেও সহজ হবে না। আর এটাই মূলত এই বিশ্বকাপকে আলাদাভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। এখানে দলগুলোর শক্তি খুবই ভারসাম্যপূর্ণ এবং পরিস্থিতি বেশ জটিল। প্রতিটি ম্যাচই চরম কঠিন হতে যাচ্ছে। আজ আমরা একটা বিশাল প্রচেষ্টা চালিয়েছি, যা আমরা সবসময়ই করি, তা আমাদের খেলা ভালো হোক কিংবা খারাপ। এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিশ্রাম নেওয়া, সামনে কী আসছে তা নিয়ে ভাবা এবং কিছু ইতিবাচক দিক খুঁজে নেওয়া। অবশ্যই কিছু ইতিবাচক দিক আছে, কারণ আমরা কিছু ভালো জিনিস করেছি। আর ভুলগুলো শুধরে নেওয়া, যা আমার মনে হয় আজ অনেক বেশিই ছিল।’




