স্পোর্টস ডেস্ক
১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন মারিও জাগালো। খেলেছিলেন লেফট উইঙ্গার হিসেবে। সেবারের ফাইনালে নিজে গোল তো করেছিলেনই, সেই সঙ্গে পেলেকে দিয়ে করিয়েছিলেন একটি গোলও। কেবল ফুটবলার হিসেবেই নয়, কোচও হিসেবেও ব্রাজিলের হয়ে জিতেছেন বিশ্বকাপের শিরোপা। ১৯৭০ সালে তার কোচিংয়েই ব্রাজিল জেতে আরেকটি শিরোপা।
৯২ বছর বয়সে এসে চলে চিরবিদায় জানালেন এই কিংবদন্তি। শনিবার তার ইনস্টাগ্রাম পাতা থেকে নিশ্চিত করা হয় মৃত্যুর খবর।
১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী দলে ছিলেন জাগালো। এই লেফট উইঙ্গার ফাইনালে গোলও করে, পেলের গোলে অ্যাসিষ্ট তার পা থেকে। ১৯৬২ বিশ্বকাপ জয়ী দলেও খেলেছেন জাগালো। ১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের প্রথম বিশ্বকাপ জেতা দলটির একমাত্র জীবিত সদস্য ছিলেন। ব্রাজিল ফুটবলে বুড়ো নেকড়ে নামে পরিচিত এই কিংবদন্তি ফুটবলারটিও
১৯৭০ সালে কোচের ভূমিকায় নেমেও পান সাফল্য। পেলেদের কোচ হয়ে জেতেন বিশ্বকাপ। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি কিনা খেলোয়াড় কোচ দুই ভূমিকায় জেতেন বিশ্বকাপ। ১৯৭০ সালের পর শিরোপা খরায় ভুগতে থাকা ব্রাজিল ১৯৯৪ সালে তাকে সহকারি কোচ করে। সেই বিশ্বকাপও জেতে ব্রাজিল।
১৯৯২ সালে ‘ফিফা অর্ডার অব মেরিট’ সম্মাননা পান তিনি, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির সর্বোচ্চ খেতাব যা। ২০১৩ সালে ওয়ার্ল্ড সকার ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে তাকে মনোনীত করা হয় সর্বকালের নবম সেরা কোচ হিসেবে। নামের অংশ থেকে মিলিয়ে তাকে ডাকা হতো ‘ওল্ড উল্ফ’ নামে। তবে কোচ হিসেবে তার দুর্দান্ত ট্যাকটিকস, টেকনিক্যাল জ্ঞান ও ডাগআউটে ব্যক্তিত্বময় উপস্থিতির কারণে ফুটবলারদের কাছে তার পরিচিতি ছিল ‘দা প্রফেসর’ নামে।
২০০৬ সাল পর্যন্ত ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে কাজ করতে দেখা গেছে। সেবার টেকনিক্যাল অ্যাসিস্টেন্ট হিসেবে কাজ করেন তিনি। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন টিভিতে বিশেষজ্ঞ মত দিতে দেখা যেত জাগালোকে। সৃষ্টিশীল এই ফুটবলার এবার নিলেন চিরবিদায়।
সারাবাংলা/এসএস



