১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে নতুন একটি ডিজিটাল সুরক্ষা বিল পেশ করেছে কানাডা। একই সঙ্গে এআই চ্যাটবটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রস্তাবিত ‘ডিজিটাল সুরক্ষা আইন’-এ বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সুরক্ষা মানদণ্ড পূরণ না করা প্ল্যাটফর্মগুলো ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য নিষিদ্ধ থাকবে। তবে যেসব প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা মান বজায় রাখতে পারবে, সেগুলোকে এ বিধিনিষেধ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়েছে, এই বিলের মাধ্যমে এআই চ্যাটবট ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য নতুন নিরাপত্তা মানদণ্ড নির্ধারণ করা হবে। এর অংশ হিসেবে একটি ডিজিটাল নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
কানাডার আইডেন্টিটি অ্যান্ড কালচার মন্ত্রী মার্ক মিলার বলেছেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিশুদের জন্য ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। তিনি বলেন, অনলাইনে ক্ষতির মারাত্মক পরিণতি আমরা দেখেছি। শিশুদের সুরক্ষা কোনোভাবেই গৌণ বিষয় হতে পারে না। নতুন আইনে নির্ধারিত নিয়ম না মানলে কোম্পানিগুলোকে বৈশ্বিক আয়ের ৩ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ১০ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে—যেটি বেশি হবে।
সরকারের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া ও এআই সিস্টেমগুলোতে অ্যালগরিদমিক ফিড, অটোপ্লে এবং ইনফিনিট স্ক্রলিংয়ের মতো ডিজাইন শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এগুলো উদ্বেগ, একাকীত্ব ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায় বলেও দাবি করা হয়েছে। বিলটিতে আরও বলা হয়েছে, সম্মতি ছাড়া অন্তরঙ্গ ছবি ছড়ানোর মতো কনটেন্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে ফেলতে হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর নীতি নিচ্ছে, তখন কানাডার এই উদ্যোগকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করে আইন কার্যকর করেছে।
এছাড়া ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও পোল্যান্ডও একই ধরনের বিধিনিষেধ বিবেচনা করছে, আর গ্রিস ২০২৭ সাল থেকে ১৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।





