
ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির কারণে আগামী এক দশকের মধ্যে মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কাকে ‘ধ্বংসের বয়ান’ বলে মন্তব্য করেছেন এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াং।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুয়াং বলেন, ২০৩০ সাল পৃথিবীর শেষ হওয়ার বছর হবে—এমন কোনো সম্ভাবনা নেই। মানুষকে ভয় দেখানোরও প্রয়োজন নেই। এ ধরনের সতর্কতাকে তিনি দায়িত্বশীল আচরণ বলেও মনে করেন না।
সাম্প্রতিক সময়ে এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে গবেষকদের সতর্কবার্তার পর প্রযুক্তিটির নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন নির্বাহী এআই মডেল তৈরির গতি কমানোরও আহ্বান জানিয়েছেন।
সম্প্রতি অ্যানথ্রপিকের সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, এআই খাতের উন্নয়নকারীরা মনে করেন, চলতি দশকের শেষ নাগাদ এই প্রযুক্তি ‘সবাইকে হত্যা করতে পারে’। তাঁর এই মন্তব্যের পর এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।
তবে হুয়াং বলেন, এ ধরনের ভবিষ্যদ্বাণীর পেছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তাঁর মতে, এআই পণ্য ও সেবার নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা এনভিডিয়ার ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।
হুয়াং আরও বলেন, যেসব এআই কোম্পানি প্রযুক্তির উন্নয়নের গতি কমানোর কথা বলছে, তাদের কেউ কেউ নিজেদের পণ্যের কারণে সম্ভাব্য ক্ষতির দায় থেকে সুরক্ষা চাইতে পারে। তাঁর দাবি, কেউ কেউ নতুন আইন প্রণয়নের দাবি না তুলে বিদ্যমান আইন থেকে দায়মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে হুয়াংয়ের মন্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন ওপেনএআই, মেটা ও ডিপমাইন্ডে কাজ করা কয়েকজন ব্যক্তি। বিবিসির সঙ্গে কথোপকথনে তারা নিয়ন্ত্রণহীন এআই উন্নয়নের ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষকে হত্যা করতে সক্ষম প্রযুক্তি তৈরি হতে পারে—এমন ধারণা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।
এনভিডিয়া এআই শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এআই মডেল তৈরিতে প্রয়োজনীয় অত্যাধুনিক কম্পিউটার চিপের বড় অংশ তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে এআই প্রযুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যেও আলোচনা চলছে। চীনের সামরিক ও এআই সক্ষমতার অগ্রগতি ধীর করতে যুক্তরাষ্ট্র উন্নত চিপ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। অন্যদিকে চীন নিজস্ব প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
রোববার নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেংয়ের মধ্যে বৈঠকে এআই, শুল্ক ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর বেসেন্ট জানান, দুই দেশ এআই নিরাপত্তা নিয়ে একটি নতুন তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও আলোচনা করেছে।
গত সপ্তাহে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস আয়োজিত একটি প্রযুক্তি সম্মেলনে অংশ নেন হুয়াং। সেখানে রাজা এআইয়ের সম্ভাব্য ‘অস্তিত্বগত ঝুঁকি’ নিয়ে প্রযুক্তি নেতাদের সতর্ক করেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্ব কম দিয়ে দেখেছেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি প্রযুক্তি সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি হুয়াংকে ফোন করেন। এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বানের সমালোচনা করে ট্রাম্প এ নিয়ে তৈরি আশঙ্কাকে ‘ভাঁওতা’ বলে মন্তব্য করেন।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
