
ছবি: নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে মানুষের চলাচলের দৃশ্য (সংগৃহীত)।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যেন মানুষের নির্দেশনা, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে ২০টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সঙ্গে এআইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নে একটি বৈশ্বিক তদারকি সংস্থা গঠনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জার্মানি, দক্ষিণ আফ্রিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সিঙ্গাপুরসহ দেশগুলো যৌথভাবে এ বিবৃতি প্রকাশ করে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে দ্রুত অগ্রসরমান এআই প্রযুক্তির ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বনেতাদের আলোচনার প্রস্তুতির মধ্যেই এ উদ্যোগ সামনে এলো।
ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ঘোষণাপত্রে সরকার ও এআই শিল্পকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এআইয়ের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রযুক্তিটিকে সবসময় মানুষের নির্দেশনা, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে।
ঘোষণাপত্রে এআইয়ের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি ঝুঁকি মোকাবিলায় শিল্পখাত, সরকার ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করতে গিয়ে যেন বিভিন্ন দেশের মধ্যে এআইয়ের সুফল পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য বা ব্যবধান আরও না বাড়ে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে দেশগুলোর মধ্যে সাধারণ মানদণ্ড তৈরি ও সমন্বয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি গুরুতর এআই নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা নিয়ে তথ্য আদান-প্রদান এবং এমন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গঠনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে, যা মানদণ্ড নির্ধারণ, যাচাই-বাছাই এবং এআইয়ের সক্ষমতা নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে দেশগুলোকে আলোচনায় বসানোর মতো কাজ করতে পারে।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহার স্টোর, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেইন, কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
তবে বিশ্বের দুই প্রধান এআই শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এই উদ্যোগে যোগ দেয়নি। অন্য দেশগুলোর জন্য বিবৃতিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ খোলা রাখা হয়েছে। ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সও স্বাক্ষরকারীদের তালিকায় নেই।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে বৈঠকের কথা রয়েছে। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এটি তাঁদের তৃতীয় সরাসরি বৈঠক হতে যাচ্ছে। সেখানে এআই নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতায় থাকা ওয়াশিংটন ও বেইজিং উভয়েই নিরাপত্তার জন্য এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে।
এআই নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই প্রযুক্তি খাত থেকেও বিভিন্ন উদ্যোগ সামনে এসেছে। চলতি মাসের শুরুতে অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদি এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে প্রযুক্তি উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানান। তাঁর এই প্রস্তাবকে পরে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধান ইলন মাস্কসহ অন্য প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা সমর্থন করেন।
এআই মডেলগুলোর অননুমোদিত ও ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার কয়েকটি ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এর মধ্যে জুলাইয়ে ওপেনএআইয়ের পরীক্ষাধীন এআই এজেন্টের মাধ্যমে এআই স্টার্টআপ ‘হাগিং ফেস’-এ সাইবার হামলার ঘটনাও রয়েছে।
সোমবার ওপেনএআই জানায়, উন্নত এআইয়ের জন্য কারিগরি মানদণ্ড নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেওয়া উচিত। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এআই শিল্পে কারিগরি অগ্রগতি এবং অর্থায়ন, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও তথ্য ব্যবস্থায় বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের কারণে এ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র উপযুক্ত অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে ‘হাগিং ফেস’-এর ঘটনাটি পর্যালোচনা করা জাতিসংঘ-সমর্থিত ‘এআই বিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক প্যানেল’ও সোমবার নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা বা ‘গার্ডরেল’ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে। প্যানেলটির মতে, ওই সাইবার হামলা বিদ্যমান এআই নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে এনেছে।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
