ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগ

ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগ

ঢাকায় ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে কর্মরত বাংলাদেশের কূটনীতিকেরা এই প্রতিবেদককে বলেছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে আহ্বান জানাচ্ছিল ইইউ। কিন্তু ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর ইইউর উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি জোসেপ বোরেল ৯ জানুয়ারি একটি বিবৃতি দেন। তিনি ওই বিবৃতিতে নির্বাচনে প্রধান সব কটি রাজনৈতিক দল অংশ না নেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন। এর পাশাপাশি নির্বাচনে অনিয়মের যেসব খবর এসেছে, সেগুলোর সময়োচিত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

অবাধ, সুষ্ঠু আর অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আয়োজনের যে তাগিদ ইইউ দিয়েছিল, সেখান থেকে ইউরোপের জোটটির সরে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশের একাধিক রাষ্ট্রদূত মন্তব্য করেছেন, সহিংসতার আশঙ্কা করা হলেও কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। এর পাশাপাশি ইউরোপের দেশগুলো, বিশেষ করে জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস মানবাধিকারের পাশাপাশি ব্যবসা, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় বিশেষভাবে আগ্রহী। যদিও নরডিক অঞ্চলের দেশ হিসেবে পরিচিত সুইডেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে মানবাধিকার, সুশাসনসহ মূল্যবোধের ওপর বিশেষ জোর দেয়। এ বিষয়গুলো তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। এমন এক পরিস্থিতিতে ইইউর বড় শক্তিগুলো বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, আর্থসামাজিক অগ্রগতি এবং ২০১৪ সালের নির্বাচন–পরবর্তী অভিজ্ঞতার আলোকে সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিতে জোর দিয়েছে। তাই সামগ্রিকভাবে ইইউ মানবাধিকার ও সুশাসনের মতো মূল্যবোধের কথা ভবিষ্যতে সামনে আনলেও ব্যবসা, বিনিয়োগসহ নিজেদের স্বার্থের বিষয়গুলোতে জোর দেবে।

Scroll to Top