ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির ভবিষ্যৎ কি? | চ্যানেল আই অনলাইন

ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির ভবিষ্যৎ কি? | চ্যানেল আই অনলাইন

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনা করে রাশিয়া। অভিযানে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকসহ নিহত হয়েছেন সামরিক বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য। হামলা-পাল্টা হামলা, প্রাণহানি, অভিযোগের এই পরিস্থিতিতে প্রায় দুই বছর ধরে চলা অভিযানের শুরু থেকেই বিশ্বব্যাপী আলোচনায় রয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এখন অনেকর মনেই একটা প্রশ্ন, রাশিয়াকে পরাজিত করতে না পারলে কী হবে জেলেনস্কির।

সংঘাতের পর থেকেই আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে বেশ সফল হয়েছিলেন জেলেনস্কি। তবে সময়ের সাথে ভাটা পড়েছে সেই সমর্থনে। ইউরোপের কিছু দেশ এখন ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন থেকে পিছু হটেছে। এমনি যুক্তরাষ্ট্রে আটকে গেছে ইউক্রেনের জন্য বিলিয়ন ডলারের তহবিল। ইউক্রেনের চিফ অব স্টাফ অ্যান্ড্রি ইয়ারমাক বলেছেন, মার্কিন সহায়তা স্থগিতের কারণে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার কাছে হেরে যাওয়ার বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।

Bkash

যুদ্ধে যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে খুব একটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পেরেছিল ইউক্রেনীয় বাহিনী তা নয়। দেশটির বেশ কিছু অঞ্চল এখন রাশিয়ার দখলে। ন্যাটোকেও এই মুহূর্তে পাচ্ছে না পাশে। এমতাবস্থায় ২০২৪ সালে ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও নির্বাচনে অনীহা প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি।

Reneta JuneReneta June

রাশিয়ার কাছে পরাজিত হলে জেলেনস্কিকে যে ক্ষমতা ছাড়তে হবে তা নিশ্চিতই বলা যায়। কথা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলকে কি পাশে পাবেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। বর্তমানে যেভাবে মিত্ররা ইউক্রেনে তাদের অনীহা প্রকাশ করছে তাতে না পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। পশ্চিমাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে তখন থাকবে নতুন প্রেসিডেন্ট কারন রাশিয়ার বিপক্ষে নতুনকেই তখন নেতৃত্ব দিতে হবে।

আবার রাশিয়ার হাতে বন্দির সম্ভাবনাও একদম উড়িয়ে দেওয়ার যায় না। সেক্ষেত্রে হয় তাকে কারাবন্দি হতে হবে অথবা নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হতে হবে। পরাজয়ের দায় মাথায় নিয়ে দেশত্যাগেও বাধ্য হতে পারেন তিনি।

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রাশিয়ার সাথে সমঝোতায়ও বসতে হতে পারে জেলেনস্কিকে। যা তার জন্য হবে চরম অপমানের। এই পরিস্থিতিতে নিজে ক্ষমতায় থাকতে চাইবেন কিনা তাও একটি কঠিন প্রশ্ন। তবে জিতে গেলে প্রেক্ষাপট হয়ত পাল্টে যাবে পুরোপুরি। ইউক্রেন এবং বিশ্বের কাছে হয়ে উঠবেন এক বীর যোদ্ধা।

বিশ্বের একটি বড় অংশ এখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। বেশিভাগ মানুষের নজর এখন ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধে। এই অবস্থায় পর্যাপ্ত সাহায্য না পেলে ইউক্রেনের রাশিয়ার কাছে মাথা নত করা সময়ের ব্যাপার। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

Scroll to Top