ইউক্রেনের নতুন সেনাপ্রধান কী পারবেন রাশিয়াকে হারাতে | চ্যানেল আই অনলাইন

ইউক্রেনের নতুন সেনাপ্রধান কী পারবেন রাশিয়াকে হারাতে | চ্যানেল আই অনলাইন

ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর নতুন কমান্ডার-ইন-চীফ হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন কর্নেল জেনারেল ওলেক্সান্ডার সিরস্কি। ‘কসাই’ নামেই তিনি বাহিনীতে বেশ পরিচিত। রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে সামরিক কমান্ডার হিসেবে তিনি বেশ খ্যাতি অর্জন করেছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে বাহিনীকে একত্রিত করা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়াসহ বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। তবে এখন তার দায়িত্ব বেড়ে গেছে অনেকটা। তিনি কী এবার পারবেন রাশিয়ার মত পরাশক্তিকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজিত করতে।

আলজাজিরা জানিয়েছে, ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি সশস্ত্র বাহিনীর বেশিরভাগ শীর্ষ জেনারেলকে বরখাস্ত বা পরিবর্তন করেছেন। বরখাস্তকৃত ১৫ জন জেনারেলের তালিকায় রয়েছেন, জনপ্রিয় কমান্ডার-ইন-চিফ ভ্যালেরি জালুঝনি। দক্ষিণ এবং পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ান-অধিকৃত এলাকা পুনরুদ্ধারে গত বছরের পাল্টা আক্রমণের ব্যর্থতা, দুর্নীতি, কেলেঙ্কারি, পশ্চিমা সামরিক সহায়তায় মারাত্মক বিলম্ব এবং সশস্ত্র বাহিনীর বিশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা কারণে বাহিনীতে এই পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে।

Bkash

জার্মানির ব্রেমেন ইউনিভার্সিটির নিকোলে মিত্রোখিন বলেন, এটি একেবারেই নজিরবিহীন একটি পদক্ষেপ। জেলেনস্কি সকলকে নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে একটি দল হিসেবে কাজ করতে চান। তিনি বলেন, শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে কেবল তারাই টিকে আছেন যারা কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ান নৌবহরের সফল অপারেশনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং বিমান বাহিনী এবং বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর কিছু প্রধান যারা রাশিয়ান আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষেত্রে সাফল্য বা স্থিতিশীলতা দেখিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার  শর্তে বাহিনীর একজন সদস্য জানিয়েছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে সিরস্কি আমাকে এমনভাবে পাঠিয়েছেন যেন আমার জীবনের কোন মূল্যই নেই। তিনি যেন আমাকে মরার জন্যই পাঠিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, সিরস্কি চিকিৎসকদের মারাত্মক ক্ষত উপেক্ষা করারও নির্দেশ দিয়েছিলেন। এমনকি পা হারানো একজনকে তিনি যুদ্ধের জন্য উপযুক্ত বলে মনে করতেন।

Reneta June

ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের সাবেক ডেপুটি চিফ বলেছেন, সিরস্কি তার পূর্বসূরীর চেয়ে সত্যিই কঠোর।লেফটেন্যান্ট-জেনারেল ইহোর রোমানেনকো বলেছেন, তিনি সদস্যদের কাজের জন্য জবাবদিহি করার ক্ষেত্রে কঠোর পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকেন। তবে সিরস্কি হামলার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণে খুবই বিচক্ষণ। তিনি সম্ভাব্য সকল কিছুই বিবেচনায় রাখেন।

স্থলবাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়ার সময় সিরস্কি দুটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। একটি ছিল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যখন কয়েক হাজার রাশিয়ান সৈন্য উত্তর থেকে রাজধানী ঘেরাও করার চেষ্টা করেছিল। সিরস্কির কমান্ডের অধীনে বাহিনীগুলো তখন রাশিয়ান সৈন্য এবং সাঁজোয়া যানগুলোতে আক্রমণ করেছিল, তাদের সরবরাহ লাইনগুলো কেটে দিয়েছিল এবং ড্রোন ব্যবহার করেছিল পুনরুদ্ধার এবং আক্রমণের জন্য। সিরস্কির দ্বিতীয় সাফল্যও ছিল ২০২২ সালে যখন তিনি গোপনে পূর্ব খারকিভ অঞ্চলে রাশিয়ান প্রতিরক্ষা ভেদ করে সমগ্র অঞ্চলকে মুক্ত করেন।

এখন সিরস্কির অন্যতম কাজ হবে পশ্চিমা সাহায্যে বিলম্বের সমাধান করা কারণ যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক দেশে সহায়তা প্যাকেজ আটকে যাওয়ার বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ভেদাভেদ। রোমানেনকো বলেন, এটা স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া সবকিছুর সমাধান সম্ভব না। সহায়তার বিলম্ব ইউক্রেনের অর্থনীতিকে ধ্বংস করছে না তবে সামরিক বাহিনীর জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

Scroll to Top