
ছবি: সংগৃহীত
সেপ্টেম্বরজুড়ে আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পালিত হবে বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস।
২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দিবসটির বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘চেঞ্জিং দ্য নেরেটিভ অন সুইসাইড’ বা ‘আত্মহত্যা নিয়ে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন’। এর মূল আহ্বান ‘স্টার্ট দ্য কনভারসেশন’ বা ‘আলোচনা শুরু করুন’।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর সুইসাইড প্রিভেনশন (আইএএসপি) যৌথভাবে এ সচেতনতামূলক মাস ও দিবস পালন করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য একটি জনস্বাস্থ্য ও মানসিক স্বাস্থ্য সংকট। সামাজিক কলঙ্ক, লোকলজ্জা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অনেকে মানসিক কষ্ট কিংবা আত্মহত্যার চিন্তার কথা প্রকাশ করতে পারেন না। তাই সংকটে থাকা মানুষের সঙ্গে খোলামেলা ও সহানুভূতিশীলভাবে কথা বলা জরুরি।
বিশ্বজুড়ে আত্মহত্যার চিত্র
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর ৭ লাখের বেশি মানুষ আত্মহত্যায় মারা যান। প্রতিটি আত্মহত্যার ঘটনায় আরও অনেকে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ কারণে সময়মতো সহায়তা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশেও আত্মহত্যার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। পারিবারিক কলহ, পড়াশোনার চাপ, অর্থনৈতিক সংকট, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও বিষণ্ণতাসহ বিভিন্ন মানসিক ও সামাজিক সংকট ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সতর্ক হওয়ার যেসব লক্ষণ
হঠাৎ নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, তীব্র হতাশা বা অর্থহীনতার কথা বলা, প্রিয় জিনিস অন্যদের দিয়ে দেওয়া কিংবা বিদায় নেওয়ার মতো আচরণ আত্মহত্যার ঝুঁকির সতর্কসংকেত হতে পারে।
এ ধরনের পরিবর্তন দেখা গেলে বিষয়টি অবহেলা না করে পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা কাছের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। বিচার বা সমালোচনা না করে মনোযোগ দিয়ে তার কথা শোনা জরুরি। প্রয়োজন হলে সাইকিয়াট্রিস্ট বা সাইকোলজিস্টের সহায়তা নেওয়া উচিত।
মাসজুড়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি
আত্মহত্যা প্রতিরোধ মাস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও মানসিক স্বাস্থ্য সংস্থা সেমিনার, কর্মশালা ও প্রচারাভিযানের আয়োজন করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধ শুধু ব্যক্তি, চিকিৎসক বা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা এবং সংকটের সময়ে দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে আত্মহত্যার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
প্রতিবেদক
হাফিজ রায়হান সাদা
বাংলাদেশ ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ খবর, মানুষের গল্প এবং যাচাইকৃত তথ্য পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয় চ্যানেল আই অনলাইন।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
