ঘটনাটি ঘটেছে আগের দিন ২৬ জানুয়ারি, গাজীপুরের শ্রীপুরের গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি গ্রামের লিচুবাগান এলাকায়। নিহত শিশুটির নাম রোমান, বয়স মাত্র ২ বছর। বাবার নাম নাজিম উদ্দিন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি জামালপুর সদরের সুনতিয়ায়।
ইয়াসিনের চাচার কথা মনের ভেতর কাঁটা হয়ে ফুটছে, রোমানের কথাও কি তার মা-বাবার সামনে আর তোলা যাবে! যার যায়, সে–ই জানে কতটা গেল!
গণমাধ্যমে ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায়, নামধাম যায়, পরিসংখ্যান জানা যায়; ইয়াসিন-রোমানদের মা-বাবার ভাঙা বুকের খতিয়ান কোথায় পাওয়া যাবে? কলিজার টুকরাকে হারিয়ে তাঁদের দিন কাটে কীভাবে, রাত পার করেন কোন ছটফটানিতে—কে রাখে খবর তার! অশ্রুপাত, তা–ও দেখা যায়, আশপাশে থাকা স্বজনেরা সান্ত্বনা দিতে পারেন, হাহাকারের আওয়াজ তবু শোনা যায়, পাশে গিয়ে কাঁধে হাত রাখা যায়, কিন্তু সন্তানহারা মা-বাবার ভেতরের ভাঙনের শব্দ, রক্তক্ষরণ—কিসে তার উপশম; কে বলতে পারে তার উপায়—রাষ্ট্র, সরকার, আমি-আপনি? আমৃত্যু সন্তানশোক বয়ে বেড়ানোই কি আবদুল খালেক-নাজিম উদ্দিনদের নিয়তি?
ইয়াসিন-রোমানদের মতো না ফুটতেই ঝরে যাওয়া কত ফুলের সকরুণ গল্প লেখা হয় রোজ—বাংলাদেশের বুকে? ‘এক বছরে সড়কে নিহত ১১ শ শিশু’ শিরোনামেই এর উত্তর আছে, গড়ে প্রতিদিন সড়কে প্রাণ যাচ্ছে তিনটি শিশুর। ২০২৩ সালের সড়ক দুর্ঘটনার এ হিসাব রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও নিজেদের সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হিসাবটি করা হয়েছে। এর বাইরে সড়কে আর কোনো শিশুর প্রাণ যায়নি, তাই–বা হলফ করে কে বলতে পারে?




